রবীন্দ্র সমালোচনা- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক কেন রবীন্দ্রনাথ কে বড় মানুষ ভাবতেন না?


লিখেছেন সজল আহমেদ

বাংলা সাহিত্যে পদার্পণ মানে আপনি ইতোমধ্যে রবীন্দ্রনাথ পাঠ করে ফেলেছেন। বঙ্গে রবীন্দ্রনাথ কে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য পাঠ মানে-লবনহীন তরকারী। কোন এক অদৃশ্য হাত বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ পাঠ বাধ্যগত করেছেন। সেই ছোটবেলায় শুরু জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” থেকেই আপনার আমার রবীন্দ্রনাথ পাঠ শুরু হয়েছে। এরপর “ব্যক্তিস্বাধীনতা” বোধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইচ্ছা হোক আর অনিচ্ছা হোক রবীন্দ্রপাঠ বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্য বইতে রবীন্দ্রনাথ থাকবেই। সরকার পাল্টালে শ্রেণী বিশেষ প্রবন্ধ-কবিতা পাল্টে যায়, কোন কোন পূর্ববঙ্গের লেখক ও হয়তো পাতা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। রাজনৈতিক দাঁড়িপাল্লায় এক সময় অদৃশ্য হয়ে যাবে আল-মাহমুদ ও সোনার নোলক। ইতোমধ্যে ফররুখ আহমেদকে খুঁজে পাচ্ছিনে পাঠ্য বইতে। কিন্তু পাঠ্যবইতে রবীন্দ্রনাথ থেকেই যাবে, থাকতেই হবে থাকা চাই চাই। মাদ্রাসা শিক্ষাতেও রবীন্দ্রনাথ স্থান পেয়েছে শুনেছি। শুনে ভালোই লেগেছে। মাদ্রাসা ছাত্ররা স্যেকুলার হবে, মাদ্রাসা ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথ জানবে রবীন্দ্রনাথ পড়বে।….বিস্তারিত পড়ুন→

Advertisements

3 thoughts on “রবীন্দ্র সমালোচনা- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক কেন রবীন্দ্রনাথ কে বড় মানুষ ভাবতেন না?”

  1. বাংলাভাষা চর্চায় রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ত্ব অস্বীকার করা যায়না। রবীন্দ্রনাথকে আমি খুব বড়ো মাপের সাহিত্যিক মনে করি।রবি ঠাকুরের লেখার সমালোচকের সংখ্যাও কিন্তু কম ছিলো না — আজও আছে। তবে ব্যক্তি রবি ঠাকুরের সমালোচনা করার লোক খুবই কম। কারন বিষয়টা অনেকটা হীনমন্যতার নিদর্শন বটে।লেখাটিতে কিছু বালখিল্যতা দেখা যায়ঃ
    ১। রবীন্দ্রনাথ অশিক্ষিত ছিলেন।
    রবীন্দ্রনাথ তো বলেননি যে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। একচুয়ালি তিনি ইউসিএল (ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন)- এ ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু নোবেল প্রাইজ পাওয়ার আগে বা পরে কখনো সে ডিগ্রি কমপ্লিট করেননি। ফলে প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তিনি শিক্ষিত ছিলেন না। কিন্তু এটিতো কোন গর্হিত অপরাধ নয়।
    ২। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের জন্য কিছু করেননি।
    করবেন কি করে তখন তো বাংলাদেশ ছিল না। তিনি ১৯৪১ সালের জুলাই মাসে, “…অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে// সে পায় তোমার হাতে// শান্তির অক্ষয় অধিকার” লিখে পরপারে চলে গেলেন। ইন্ডিয়া-পাকিস্তান হল ১৯৪৫ সালে, মৃত্যুর চার বছর পর। তার আরো ২৬ বছর পর বাংলাদেশ হল। তিনি যখন বেঁচে ছিলেন তখন বাংলাদেশ আর বাংলা (পশ্চিম বাংলা) আলাদা ছিলো না। যা কিছু করেছিলেন বা করতে পেরেছিলেন তা তিনি অবিভক্ত বাংলার জন্যেই করেছিলেন। এছাড়া, দু’বংগ ভাগে তার সমর্থন ছিল না। বংগভঙ্গের বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণও করেছিলেন। ফলে, বিশ্বভারতী- শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাস, ও বিশ্বভারতী- শিলাইদহ ক্যাম্পাস এরকম দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে করার মত বুদ্ধি হয়তো করে উঠতে পারেননি।

    Liked by 1 person

    1. মন্তব্যটি সদালাপ থেকে কপিপেস্ট করেছেন নিশ্চই? এর জবাব আমি সদালাপেই দিয়েছি দেখতে পারেন দেখতে পারেন এখানে।পুনরায় আবার জবাব দিচ্ছি।
      আমি আপনাকে পয়েন্ট ধরে জবাব দিচ্ছি।প্রথমে আপনি দাবী করলেন-
      তার লেখার সমালোচনা করা কঠিন- এজন্য লেখার সমালোচক কম।
      বর্তমানে তাঁর সমালোচকের সংখ্যা কম থাকলেও থাকতে পারে তবে রবীন্দ্রনাথ এর লেখার মোটেই কম সমালোচক ছিলোনা সেসময়।বরংচ তাঁর ভক্তের তুলনায় সমালোচক ছিলো বেশি-


      অবশ্য ইহাদের(বিদ্বেষীদের)প্রতিপক্ষও যে ছিল না তাহা নয়,অর্থাৎ ভক্তও তাঁহার জুটিয়াছিল।ইহারা বিদ্বেষীদদের তুলনায় সংখ্যায় অনেক কম হইলেও দলে নিতান্ত অল্পসংখ্যক ছিল না।তবে ইহাদের দ্বারাও রবীন্দ্রনাথ হিত হয় নাই।ইহারাও তাঁহার যে-রূপ প্রচার করিয়াছিল তাহা অন্ধ স্তবকের প্রশস্তি ভিন্ন কিছু নয়।এমন কি, এই রবীন্দ্রভক্তি এমনই বাক্যভঙ্গী ও আচরণে প্রকাশ পাইত যে, উহাকে হাস্যস্পদ করা নিন্দাকারীদের পক্ষে খুবই সহজ হইত।[আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ ;নীরদ চন্দ্র চৌধুরী-পৃঃ৩ ভূমিকা থেকে]

      এখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে রবীন্দ্রভক্তের চেয়ে রবীন্দ্র বিদ্বেষী বা সমালোচক সংখ্যায় ছিলো বেশি।কাজেই আপনার দাবীর প্রামাণ্য সূত্র দিলে বাঁধিত থাকব।
      জীবদ্দ্বশায়, বাংলা সাহিত্যের ডিভেইলপিং স্টেজে, গুটিকয় সমালোচক ছিলেন,

      তাঁরা রবীন্দ্রনাথের তুলনায় পরবর্তীতে তেমন নাম করতে পারেননি। অধুনা নামকরা সমালোচকদের একজনকে আমরা চিনি- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- (…রবীন্দ্র রচনাবলী ধুলায় গড়ায়), পরে ভুল বুঝতে পেরে ‘দেশ’ পত্রিকায় বেশ বড় প্রবন্ধ লিখে প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন।

      রবীন্দ্র সমালোচকরা পরবর্তীতে ধোপে টিকলো কি টিকলোনা, নাম কাম করতে পারল কি পারলোনা সেটাও আলোচনার বিষয়।তবে কি,তাঁরা মিথ্যে বলেছেন এমনটাও তো বলা যাবেনা।সুনীলের ভুল করে ক্ষমা চাওয়ার মানে এই নয় যে, বাকি সমালোচকরাও ভুল করেছিলেন।সুনীল এমনিতেই তথ্যসূত্রের ধার ধারতেন না যার দরুন লালনকে তিনি “কর’ বানিয়ে ছেড়েছেন। সবাই’ই যে ভুল করেননি তাঁর বড় প্রমাণ; কবি নিজের সমালোচনা একেবারেই পছন্দ করতেন না[দ্রঃ এ এক অন্য ইতিহাস;অনন্য রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুরবাড়ি অধ্যায়]।তাঁর নামে ছড়ানো বিদ্বেষগার যেগুলো মিথ্যে মনে হয়েছে তিনি সেগুলোর বিপক্ষে কলম ধরেছেন।একবার তিনি, তাঁকে নিয়ে নিয়ে একটি গল্প লেখার কারণে মানহানি মামলাও করেছেন হেমেন্দ্রর বিরুদ্ধে।[দ্রঃজ্যোতির্ময় রবী ও কালো মেঘের দল] কিন্তু বাকি সমালোচনার তিনি জবাব দিলোনা কেন যদি সসমালোচকদের ভুল হয়?
      সজল আহমেদের লেখাটিতে কিছু বালখিল্যতা দেখা যায়ঃ
      ১। রবীন্দ্রনাথ অশিক্ষিত ছিলেন।
      আমি কখনোই রবীন্দ্রনাথ কে সরাসরি অশিক্ষিত বলিনি।আমি বোঝাতে চেয়েছি-রবীন্দ্রনাথ ঐ সময়ে সাহিত্যাঙ্গনের কর্তাদের কর্তৃক অশিক্ষিত বলে গণ্য হতেন।আমার বক্তব্য এখানে স্পষ্ট; “সে সময়কার সাহিত্যিকগণ রবীন্দ্রনাথকে নিতান্তই অশিক্ষিত ভাবতেন।’এই প্রসঙ্গ এর জন্য টানা যে,রবীন্দ্রভক্তরা কবিগুরু থেকে রবীন্দ্রনাথ কে এখন বিদ্যেগুরুতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।তাঁদের সেই গুরুকেই কিনা পূর্বকালে অশিক্ষিত ভাবতেন”


      ২। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের জন্য কিছু করেননি।
      করবেন কি করে তখন তো বাংলাদেশ ছিল না। তিনি ১৯৪১ সালের জুলাই মাসে, “…অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে// সে পায় তোমার হাতে// শান্তির অক্ষয় অধিকার” লিখে পরপারে চলে গেলেন।

      ইন্ডিয়া-পাকিস্তান হল ১৯৪৫ সালে, মৃত্যুর চার বছর পর। তার আরো ২৬ বছর পর বাংলাদেশ হল।
      আমার লেখায় “বাংলাদেশ’ শব্দটি নেই তবুও আপনি প্রয়োগ করলেন কেন বুঝলাম না!আমি বাংলাদেশ এর বদলে এখানে পূর্ববঙ্গ লিখেছি ঠিক এই কারণেই যে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ দেখেন নি।


      এছাড়া, দু’বংগ ভাগে তার সমর্থন ছিল না। বংগভঙ্গের বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণও করেছিলেন

      ১৯০৫ সালের দু’বঙ্গ দুভাগে সমার্থন ছিলোনা আমি যদি বলি তাঁর স্বার্থের কারণে? সিংহভাগ জমিদারী ছিলো পূর্ববঙ্গ এস্টেট এ।কেউ কি চাইবে নাকি তাঁর সম্পত্তি জলে যাক? বঙ্গভঙ্গের সাথে বাঙ্গালী মুসলমানদের স্বার্থ জড়িত ছিলো,তাহলে বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতার কারণে রবীন্দ্রনাথের “বঙ্গভঙ্গ’ বিরোধীতা কি আমি প্রশ্নবিদ্ধ করবনা? তিনি যদি অবিভক্ত বাংলার জন্যই করেন তাহলে ১৯১২ সালে কেন ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করলেন? আশাকরি উত্তর পেয়েছেন।

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s