সজল আহমেদ এর কবিতাগুচ্ছ-১


 

 

বইয়ের নামঃকবি এখন খোশ মেজাজে

সজল আহমেদ

20170623_043608

উপসানালয়ে হামলা কেন মাদারচোদ?

উপসানালয়ে হামলা কেন মাদারচোদ?

উপসনালয় কি ভাবছোস তেলের আড়ৎ?

আম্রিকা এত মহান যে-আমার নুনুটাও অতো মহান হইয়া শত্রুর গভীরে ঢুইক্যা ঘরের শত্রু বিবিসন তৈয়ার করতে পারেনা।

ইয়া আম্রিকা ইয়া আম্রিকা খোশ মেজাজেই আছো?

তেলের নদীতে নাইম্যা প্যান্ট খুইল্যা কি নাচো?

মধ্যপ্রাচ্যের তেল খাইয়া পরজীবীর লাহান বাঁচো।

সৌদী তুমি আম্রিকার’ই ঘেটু হইয়া থাকো;অস্ত্র পাতি কেনো,

জুয়ার টেবিলে বইসা তুমি মিলিয়ন ডলার ঢালো।

কোথায় রইলো দ্বীন ইসলাম খোঁজ কি তুমি রাখো?

রাজতন্ত্রে বইসা তুমি সুখের মোদীরায় ভাসো।

ইয়া সৌদী ইয়া সৌদী

কোথায় রইলো দ্বীন আল ইসলাম,কোথায় রইলো উম্মাহ্,

তাগো মাইরা গায়ের উপরতে এসরাইলরে দাও চুম্মা!

ইয়া সৌদী ইয়া সৌদী দ্বীনি ভাই কেন মারো?

জানি সৌদী ইয়া সৌদী তোমার কাছে রাজতন্ত্রই বড়।

 

মন খারাপের দিন

যখন মন খারাপ হয়, পৃথিবীটা হয়ে যায় জাহান্নামের টুকরা ফুল হয়ে যায় পতিতালয়ের পতিতা।

পৃথিবীটাকে খুব সংকীর্ণ মনে হতে হতে মনে হবে যেন বেশ্যার আড্ডাখানা।

মন খারাপের দিনগুলো এভাবেই মন খারাপির সাথে সাথেই শেষ হয়ে,

গাছের ফুলের মত শুকিয়ে মন একসময় নিস্তেজ হয়ে যায় ও মেঘ’রে।

 

দেড়শ লাশ

পরে আছে দেড়শ লাশ

দেড়শ লাশের উপর দাঁড়িয়ে মন্ত্রী এমপির ভোগবিলাশ।

ছিঃ ছিঃ এই দুনিয়ার নীতি?

এই নীতিতে খাড়ায়া আমি মুতি।

রাজা পাখি পুষে পাখির আহারে যায় কত কত টাকা,

পাখি হতে চাই খোদা রাজার খাচার, শির্ণ দেহ যদি চর্বিতে পরে ঢাকা

তবে মন্দ কি এইতো পর পোন্দায়ে বেঁচে থাকা।

রাজ পোন্দাবে জনতারে-

আমি পোন্দাবো রাজার চৌদ্দগোস্ঠীরে।

 

শক্তি শেষ হইলে বেবাজনে ঝড়বে

আমি আসমানের চাঁদ একলা দাঁড়াই দেখতাছিলাম একমনে,

সামনে থিকা তারা খইসা পরতাছিলো আসমানে।

ডাক দিয়া কই খাড়ও তারা পরতাছো কেন খইসা’রে?

তারাগণে ডাইকা আমায় বলতাছে কানে কানে;

নিজ শক্তি ক্ষয় হইলে ঝইড়া পরে বেবাকজনে।

 

ধর্ম মানে

আল্লা ধর্মের কি ওরা বুঝে?

ওদের ধর্ম তো আত্মায় নয়;

লোক দেখিয়ে ধর্ম কি হয়?

ওরা ধর্মের নামে সুবিধে খোঁজে!

আল্লা ধর্ম কি এই;

আমীন না লিখে যাবেন না;কিংবা পকেট থিকা ৫হাজারের বান্ডিল লোক দেখিয়ে দান?

আল্লা ধর্ম কি এই-কোরবানীর নামে ফ্রীজে রাখা গরুর রান?

আল্লা ধর্মের নামে হয় কি এই;বোকা বানিয়ে সাধারণরে, সম্পত্তি গ্রাস করা?

আল্লা এমন ধর্ম দাওনি তুমি জানি,

ধর্ম তো নয় ছেলের হাতের মোয়া বা নেহাৎ ফাজলামি।

আল্লা ধর্ম তো এই;যেটা তুমি দিলে-

মানুষের তরে মানুষ।

 

পাহাড়ে আহারে!

খান খান হয়ে যাচ্ছে পাহাড় কর্দমের দলা ঢেউ হয়ে আচড়ে পরে ঘুমান্ত মানব শাবকের গায়ে, ঘুম ভেঙ্গে যায় রাজার পেয়াদাদের যখন দেড়শ মানুষের ভিড়ে দেড়শ জীবন বলি হয়ে পরে থাকে নিথর দেহ মাটির চাপে।

বর্ষার আগে সরকারী পেয়াদাগণ পাহাড় কেটে বিক্রি করে মাটি, পকেটে ভরে কচকচা নোট আহা টাকার পাহাড়ে তাঁরা নাচে-

মাদারির পোলাগণ এই দেড়শ জীবনের মূল্য মিটিয়ে দিতে পারবি কি তুই?

পারবি কি ফিরিয়ে দিতে দেড়শ মা বাপ কিংবা সন্তান?

দাবী রাখি,কেয়ামত দিবেসে এরা যেন এক হয়ে সরকার সহ তোদের ঘাড় চেপে ধরে এর হিসাবটা বুঝে নিতে পারে।

 

 

মৃত্যু

একটা মৃত্যু কোন রকম হাতরিয়ে মেঘ কড়া নাড়ে আমার দুয়ারে

আমি বলি ওগো মৃত্যু তুমি চলে যাও দেখার অনেক কিছু বাকি।

এত বেঈমান মানুষের ভীড়ে-

কতজন কে আপন করেছি অচিরে।

সব ছিলো অভিনয়, মানুষের বেঈমান মানুষের।

এত বেঈমানি করেও মানুষ নাকি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব!

 

 

আধুনিক নূহ

———————

চলতেছে নৌকো পিচের রাস্তায়,

নূহ নবীজির জিগারি দোস্ত হয়ে আহ্বান করছি-ওগো নূহ আবার ফিরে এসো দু বন্ধু এক হয়ে পাল্লা দিয়ে নৌকো চালাই শহরেরই রাস্তায়,

তুমি এসে কিস্তি ভাসিয়ে দাও শহর তলাটে শহর ভেসে যাচ্ছে তথা খোদা বখস সরকারের ইশারায়।

যে তলাটে সরকারী পেয়াদাগণ আশা দিয়েছিলো বড়;

সে শহরই পানিতে ডুবুডুবু গু ভাসছে বড় দলাদলা সে শহরেরই রাস্তায়।

তবে নূহ;খোদার গজবে এ পানি মাটি ফুঁড়ে বের হয়নি-

সরকারী পেয়াদাদের বড় বড় আশার ফলাফল বৃষ্টি ভুল করেনা।

 

বন্ধু

——————

ঘুমাইয়া তুই মইরা যাইতে চাসরে বেশ;

আমারে কি বইলা গেলি?

বন্ধু মানে ভাইবা নিছস ছোট্টবেলার খেলাখেলি?

বন্ধু মানে ভাইবা নিছস নেহাৎ মুখের ডাক;

বন্ধু মানে ভাইবা নিছস পুতুল খেলা;আমি ভাই অবাক!

ঘুমের বড়ি খাইয়া তুই একলা একা মইরা যাবি?

তার আগে ক, মইরা যাওয়ার আগে কি আমায় সঙ্গে নিবি?

নাকি একলা একা পার হইতে চাস মঙ্গলের ঐ গ্রহ

একলা একা পাইতে কি চাস খোদাতালার অনুগ্রহ?

একলা একা যাইতে কি চাস একলা একার দ্যাশে?

চইলা যা না বাঁধন কাইটা আমার কি যায় আসে?

যদি নিছক পুতলা খেলা ভাইবা নিস ও ভাইরে-

খোদার কসম বইলা রাখি-এইটার বিচার চাইমু খোদার দরবারে।

ভাইবা নিছস একলা একা চাঁদ ধরবি আগেভাগে?

পৃথিবী থিকা চইলা গেলেই চাঁদ ধরা কি সহজ হবে?

ঐ পারে কি মেলা স্পেসশিপ?

বন্ধু তোর ভাবনা এত কেন আজিব?

চইলা যাওয়ার আগে-বইলা যাস আমারে;

শনিগ্রহে পারি দিমু দুইভাই হাত ধরে।

বলয় দেখমু শনিগ্রহের দুই ভাই একলগে;

কসম আল্লার দাবী আমার, যাস যদি তুই আগে।

 

ম্যাঘ

——————-

মেঘ কোন আকাশে বাড়ি তোমার কোই থিকা যে আইসা-

বৃষ্টি ফ্যালো টাপুর টুপুর জলে গেলাম ভাইসা।

ও মেঘ তুমি বৃষ্টি ফালাও হইয়া যাও গো গান

ও মেঘ তুমি নাইচা বেড়াও আমার বাড়ির উঠান।

 

পুঁজিবাদের দ্যাশে

————————-

ও পৃথিবী ফাঁক হয়ে যা ঢুইকা পড়ি মাঝখানে-

কম পাইনায় দুঃখকষ্ট ছোট্ট এই জীবনে।

আমার ধনে রাস্তা গেছে মন্ত্রী উঠায় বাড়ি

আমার গাছ রাস্তা থিকা কাইটা নিছে সাড়ি সাড়ি

মন্ত্রীর বাড়ি তাহার গাছ সবই ঠিকআছে

এত চোদন দেলে বাবা গরীব কেমনে বাঁচে?

 

 

অনুভূতি

————————

সুন্দরী মাইয়া মানুষ দেখলে দৈবাৎ যে চিনচিনটা শুরু হয় সেইটা একেবারে বুক থিকা পেটের তলদেশ পর্যন্ত।

এক অভিনব পন্থায় আকাশ বাতাস কাপাইয়া হার্টের দুর্বলতায় কাপাকাপি শুরু হইয়া যাইতে চায় ও ম্যাঘ’রে!

কেন তুমি আমারে কষ্ট দাও বা দিতাছো?

একটা আকাশ দাঁড়াইছিলো মাথার উপর ঠিক যেন

আকাশ ছিলো ভালোই আবার সেই আকাশে ম্যাঘ কেন?

 

এইখানের কবিগণ

————————-

এখানে কবিরা হেগে মুতে ভালো থেকে গল্প শুনাইতে পারে একটি টাকার ভ্যাট কতো!

যেখানেই মধ্যবিত্তগণ-

কলামিস্টগণ কলম হাতে হাজির হন।

মাল ভাই টাক মাথায় গল্প করে হেসে ট্যাক্স ধরিয়ে দেয় -এই গরীব না খেয়ে মর।

ট্যাক্সের চোদনে ভ্যাটের দহনে গরীব পুইড়া মরুক গরমে।

মাল টাল, টেকো মাথায় বরফ ঢেলে এসির তলে শান্তিতে ট্যাক্স আরোপ করুক না।

সমান অধিকারের দ্যাশে;কুটি টেকার ফকিরেরা দেয় যদি পারসেন্ট পনেরো-

গরীব ও সেই সাথে মালের মাথায় হাত রেখে সোয়া চার গাট্টা মেরে দিয়ে দিতে পারো।

 

 

শুকনা পাতার আকুতি

—————————-

সেইসব শুকনা পাতা থিকা পোন্দাইয়া পোন্দাইয়া জল পড়তাছিলো যে

বলছিলাম ও শুকনা পাতা আর জল কেন ফেলিস’রে?

শুকনা পাতা কাইন্দা কাইটা নিজমনে গান গায়;

ও আমার গাছ কাইটা নিয়া এ কেমন জ্ঞান দেয়?

 

 

এই ধনতন্ত্রের দ্যাশে

————————-

এই ধনতন্ত্রের দেশে গরীবেরে দেখোনের কেউ কি অবশিষ্ট রইলো?

গতরের ঘাম পায়ে পরে-পা থিকা সোদা মাটির লগে মিলন ঘটনের পর পরই গইড়া ওঠলো শহুরে গুটিকতক ধনীগো ইমারত।

শ্রমিকের ঘাম থিকা তাগো আরো পয়দা হইলো বিপুল সম্পদ

যার উপরে বইসা পায়ের উপরে ঠ্যাং তুইলা বড়লেকি চোদান ধনিকের পুত্র

ঐ ইমারতে বইসা ধনতন্ত্রের রাজা সাহেব বিচার করেন, ‘শ্রমিক কেন কর দিলোনা’।

 

লাই

—————-

আল্লা তুমি রাগ করবেনা কিন্তু,

আমি চরম থিকা চরমে উঠে গেছি

এই যে পুচকে বান্দাটারে দেখো

এ যে লাই পাইলে মাথায় উঠে বসবে এ তাঁর বংশগত দোষ!

বান্দরের ছাও লাই পাইলে মাথায় উঠে

বাদাম ভেঙে খোসা ছাড়িয়ে খায়।

ছাগল শাবক লাফ দে তিড়িংতিড়িং

উঠে বসে লাফ মেরে বিধাতার কোলে

ভেবেছে এ রাজ একাই করবে ভোগ

মালিক আবার লাই দিয়ে মাথায় তুলে

দুগ্ধভর্তি ফিটারে ভরে দেয় ছাগল শাবকের পেট।

পেট ভরে গেলে হালকা মুতে শুয়ে পড়ে ছাগোল ছানা বিধির’ই কোলে,

তীব্র মুতের গন্ধে বমি এসে যায় যখন বিধির,তখন ছাগোল ছানার পাছায় লাথি মেরে কোল থিকা নামাইয়া দেয় সে;

এত লাই দিয়ে, কোল থেকে ফেলে দেয়া জঘন্যতম পাপ কিনা বল?

 

দেবী বেপর্দা হয়োনা

————————–

দেবী বেপর্দা হয়োনা ভুলেও;

বাম মৃণালদের দেয়া শাড়ির বদলে হিজাব পড়।

দেবী বোরকা পড় বোরকা।

দেবী দেড়কুটি টাকার শাড়িতে কি তোমায় মানায়?

মৃণাল কোন এক ভুলে দেড়কুটি মেরে দিয়ে

তাকিয়ে বিধাতার দিকে ভ্যা ভ্যা কেঁদে গালি মারে মোল্লাদের অপ্রগতিশীল বলে।

দেবী মিছিলে ২৫ জন হয়ে বামদের কাতারে যাও,

বাকি জনতায় তোমার কি আসে যায়?

যাও গিয়া আটকাও শ্রমিকের রুজির পথ

এ আন্দোলনে হইতে হবে জয়

দেবী প্রতিবাদ কথা কয়

আবার তুলিতে হইবে পুলিশি পাহাড়ায়, তোমার মূর্তিকে।

দেবী বোরকা পড় বোরকা মৃণালের দেয়া শাড়ি ছেড়ে বোরকা।

 

ক্ষুদ্র জবাব নামা’(নাম নির্বাচন এম.কে মিনহাজ খাঁন)

——————————————————-

কয়েকটা পতিতালয় নিয়া একটা শহরের আর্তনাদে মরা বাঁশির সুরের মত লাগে এ শহর,

ঘুমন্ত চোখে ঢুলঢুল শরীরে মর্মবাণী প্যাঁপু বাজে

ওকি ছবিয়ালের শয়তান চোদনা দিনকানা হরিজন বিলাতির পুত

শহরের পতিতালয়ে থাইকা গ্রামের আমারে কয় ভূত!

ইদানিং নব বালে ছয়লাব গুরুজন জ্ঞানের সাগরে কবিদের চোদনে কবিতা লিখে লিখে,

শহরের গোয়ামেরে হাতে দেয় হারিকেন ধরিয়ে।

গাঁজাটেনে রাজা সেজে গ্রামের আমারে কটাক্ষ করে।

চুদিপাদি রাজা বৌদী ইত্যাদি কবিতার ছলে ;

জুটিয়েছ চামচা মুখে মুখে ওরা সব ওহীসম মনে করে বলে।

 

 

শক্তি ফুড়াইলে বেবাক ঝড়বা

————————————-

 

আমি আসমানের চাঁদ একলা দাঁড়াই দেখতাছিলাম একমনে,

 

সামনে থিকা তারা খইসা পরতাছিলো আসমানে।

 

ডাক দিয়া কই খাড়ও তারা পরতাছো কেন খইসা’রে?

 

তারাগণে ডাইকা আমায় বলতাছে কানে কানে;

 

নিজ শক্তি ক্ষয় হইলে ঝইড়া পরে বেবাকজনে।

 

আমি আল্লাহ্’রে বলে দেবো সব

————————————–

আমি আল্লাহ্’র কাছে বলে দেবো সব

আমি আল্লাহ্’র কাছে বলে দেবো সব

পথঘাট আর তার মানুষগুলো

কেমন করেছে আমার সাথে;

কেমন করে আমায় শোওরের বাচ্চা বলে বিচিতে লাথি মেরেছে,

আমি ব্যথা না পাওয়ার ভান ধরে ছিলাম

বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর বিচিটা

ধুমছে ফুলে-ফেপে উঠলো।

আমি চিৎকার দিয়ে কাঁদছি আর

মেঝেতে গড়ায়েছি নেড়িকুত্তার মত

আর ওরা দাঁতের ওপর দাঁত ফেলায়া

হাসছে; হালা একশীরা।

আমি বলে দেবো সব,

বড় ঘরের বড় মানুষগুলো কেমন

আচরণ করেছে আমার সাথে।

আমি আল্লাহ্’কে বলে দেবো সব,

টাকার অভাবে চিকিৎসা হয়নি

আমার ;অথচ দায়ী ওরা-

অথচ,বড় বড় ঘরগুলোতে টাকার ছিলোনা অভাব।

আমি আল্লাহ্’কে বলে দেবো,

শুয়েছিলাম ৩দিন ধরে হসপিটাল সিটে খবর নেয়নি কেউ

না ডাক্তার, না আয়া না কেরানী না কেউ না

আল্লাহ্’কে বলে দেবো,

ওরা সুখেই ছিলো,আর আমরা যারা গরীব

তারা মরেছি অন্ধকারে

 

আর ভেসেছি অলীক কল্পনায়।

আল্লাহ্’কে বলে দেবো,

ওরা বড়সড় রোগ হলে চিকিৎসা নিতে আমেরিকা পারি জমায়,

আর আমি?

ঐ যে ছউচ্ছা লৌহ মাখা মেঝেতে গড়ায়ে এপার হইতে ওপার যাই।

আমি কেঁদে উঠে কান ফাটানো চিৎকার দিয়ে বলব-

“ওরা;ঐ যে অট্টালিকাবাসী আমারে করেছে হেলা,

গালি দিয়েছে -হেলা করেছে ডেকেছে বান্দির পোলা!

আমি হাতুরি শাবল চালায়েছি মাঠে

ওরা ডান্ডা চালায়েছে আমার পিঠে

না খায়া কাঁদছি,আর ওরা পরিসংখ্যান করছে

দেশে না খায়া এখন আর কেউ মরেনা!”

আমি আরো বলব,

ধনীর দুলাল মাথা ফাঁটায়েছে আমার,

আর আমিই করেছি কারাবাস!

ওরা লাথি দিয়েছে তলপেটে, আমার খালিপেট

ওরা আমার গায়ের গন্ধ শুকেছে

বলেছে ‘‘শালা ক্ষ্যাত, ক্ষাণকির পোলা নাওনা ক বছর

গায়ে বিশাল গন্ধ দেওনা কি পারফিউম?’’

আমি তো পারফিউমই চিনিনা দিমুটা কই?

ঐ যে বিকট গন্ধওয়ালা দামী একটা পানির বোতল?

সে যাইহোক ওসব চিনিনা আমি

তবে সব সহ্য করেছি মুখ বুজে

একদিন আমিও দেখবো

 

ওদিন বিচার হবে, বলব ওনাকে সব,

ওরা খাবে মার,

আমি খবিসের মত দাঁড়ায়ে বলব “সাবাস”।

 

দীর্ঘ কবিতা

————————-

১.

এই যে আমরা আল্লার দুনিয়ায় থাকি এখানে আমাদের কেহ পুছেনা

গরীবুল্লাহ গরীব ক্যানো এই প্রশ্ন তোলার কেউ নাই।

অথচ আইনসভা বিধান দিয়া বলে-ধনীগরীব কোন ভেদাভেদ নাই,

আইনসভার লগে ধর্ম যোগ হইলো দুইতত্বে গরীবি থিকা গরীবুল্লাহর কোন রক্ষা নাই।

নিরাপত্তা নাই তাঁর তিলে তিলে গড়া সামান্য সম্পদের।

লোভী পুঁজিপতিরা তখন মনে মনে হাইসা ওঠে;

সবুজের সমারোহতে প্লাস্টিক চাষ

ফুলস্টপ মেরে দেবো জনতার গায়ে

ব্যাংকের টঙ্কা করে দেবো ফাঁকা

কখনো বা পিপুলস এর গোয়া মেরে

নাটক মঞ্চায়ন করে,অমুক টু মর্জিনা

অথবা বিভিন্ন ইস্যু চার পায়ে খাড়া হয় অনবরত।

গরীবুল্লাহ তখন প্রতিবাদ কইরা উঠনের চায়;

ব্যাংকে কেউ যাবেনা গোয়া মারা খাবানা।

পৃথিবীর মাটি তুমি ফাঁকা হয়ে যাও অথবা তৈরী করে দাও গোপন গুহা

আমি তন্মধ্যে গুহা যুগের ন্যায় অর্থ রাখি,

অথবা বন্দি কোন অক্সিজেন হীন সিন্দুকে যা ভাবে ভাবুক নিন্দুকে-

ওহ্ ভুলে যাই কেন-বিজ্ঞানের মায়রে বাপ আগুন তো লেগে যেতে পারে অক্সিজেনহীন সিন্দুকে।

তাহলে আমার অর্থ কোথায় রাখি?

পৃথিবীর কোন এক ফাঁকা জায়গায় রাখো যেখানে বস্তিবাসীর বাস

যাতে গরীবরা খেতে পারে,

শুয়োরের বাচ্চা দুর্নীতি বাজ ম্যানেজারদের ভাগ না দিয়ে ওরা চিবুক কচু ঘাস ।

গরীবুল্লাহদের দ্যাশ বড়ই আজবের দ্যাশ-

কেউ মাছ ভাত মাছে তৃপ্ত না কেউ আবার ফেন ভাতে পুষিয়ে নেয় দুবেলার আহার

 

অথবা কেউ না খেয়ে গামছা খিচে পেটের উপর ক্ষুধা তীব্রতার কষ্টটা উপভোগ করে।

ভাত কই কই ভাত এক থালা পানি ভাত, বাসি ভাত খাওয়ার মত ভাত?

ভাত নাই পাতালে, স্বার্থের দেয়াল গড়তেছে পুঁজিবাদীর দল।

পুঁজি করে সারা পৃথিবীর ধন ওরা, পুঁজিতান্ত্রিক সমাজ গাড়বার চায়।

ইট বালি দিয়া চালের গুদাম ওরা বড় বড় তালা দিয়া আটকায় রাখে

অথচ দিকে দিক চাইয়া দেখো একমুঠো খাবারের টানে,

রহিমন, করীমন,রাম শাম যদু ঘুরতেছে দ্বারেদ্বারে।

আমাদের মিডিয়ারা বলে দ্যাশে এখন না খাইয়া কেহ মরেনা না নাকি।

মঞ্চে উঠে সরকারীদল গলা ফাটয়ে চিৎকার মারে ‘না খাইয়া মরেণা কেউ এখন’।

ভাত উড়ছে আকাশে বাতাসে দরীদ্রতার কোন ছাপ নেই এই শহরের গোপন পতিতা পল্লিতে খদ্দেরের ও অভাব নেই।

দেহের কোটরে শান্তি চলে, পেট ভরে যায় দুবেলা দুমুঠা ভাতে খদ্দের আসে খদ্দের যায়, দশ মিনিট সময় কাটায়।

 

৫০ টাকায় দেহ বিলিয়ে ২বার, ২বেলার ভাতের জোগাড় করে চলে যায় একটি পরিবার।

ঐ বস্তির ভাত না খেতে পাওয়া নাম করে, হাড্ডিসার কংকালসার দুটো ছেলেকে পত্রিকার পাতায় লেপ্টে রেখেছে ফডু সাংবাদিক;

সাংবাদিকরা কি সাংঘাতিক!

আমাদের মহামতি সরকারের বিরুদ্ধে এক প্রিন্ট মিডিয়ার নব ভাওতাবাজি।

মাথার উপরে চালা নেই যার পাতিল ভর্তি ভাত আছে তার, আছে পাশে দুটাকার সরকার।

দুবেলা ভাত না খেয়ে এখন আর কেউ মরেনা।

এই শহরের মাটির কীটেরাও ভাত খেয়ে দিব্যি পেট উচিয়ে চলে

চালের কেজি এক হালী ডিমের দর ওরা ঐ কংকালসাররা ভাত খাচ্ছে কেন ভাতের দরে ডিম খেয়ে বড়লোকের বাচ্চাদের মত বল্ডি বিল্ডার হোক।

যদি বডি বিল্ডার না হইতে পারে খাইয়া,ভাতের জন্য সংগ্রাম করবে কি দিয়া?

বুটের আঘাত কিংবা লাঠিচার্জ সইতে পারার মতন একটা সুঠম দেহ চাই আগে।

এখানে এ রাজ্যে পুলিশি পাহাড়ায় থাকে চালের গুদাম।

চল বডি বিল্ডার হয়ে চালের গুদামে চালাই আক্রমণ,চাল এনে ভাত খেতে হবে।

শ্রেণী সংগ্রামে করা নাকি পূর্ব স্বভাব এ মানুষের চল তাহলে দেরী কেন?

২.

এই মাথার উপরে তপ্ত আকাশ, শ্রমিক কাজ করে চলেছে তপ্ত আকাশের নিচে,

মাথায় ইটের বোঝা গড়ে দিবে হয়তবা কোন পুঁজিপতির বড়সড় অর্থের সিন্ধুক অনবরত ইট বালু সিমেন্ট টেনে টেনে এনে।

শ্রমিকের হয়তবা জানা নেই পুঁজিপতি কোন একদিন বিষাক্ত কিংকোবরা হয় সোবল করবে।

শ্রমিকদের দেড়শকোটি ইউএস ডলার নিয়া সে হবে সমাজের সব থিকা বড় পুঁজিপতি আর শ্রমিক তাঁর অবস্থানেই।

হয়ত শ্রমিকের কলেজ পড়ুয়া ছেলেটা মাঝখানের আঙ্গুল তুইলা প্রতিবাদ করে পুঁজিপতির কাছে নিজের দাবী দাওয়া করবে গালি দিবে অর্থ চাইবে।

 

৩.

আমার কবিতা ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকবে

সুতরাং,বেসতীরা সাবধান!আমি কুতুব পুছিনা জেনে রেখো-

আমার মগজে অাগ্নেয়গীরীর আগুন খেলে,

আমার বাংলায় বিন শমসের ফকিরনি জন্মাইছে প্যালেসে থাইকা যিনি গরীব কে ভাবছেন চুদির ছেলে।

অতএব একশ ত্রিশ কুটি ইউএসডির গভীরতা আমারে দেখাইলে

কবিতা লিখে গোনাগোষ্ঠীর একহাত দেখে নেবো!

আমি চলতে পারিনা হাতে টাকার অভাব

বেকার আছি বসে- তাই চোরের স্বভাব

দিন দিন আমার উগ্রতা চলছে বেড়ে

বাপ মা গালি দেন কথায় কথায় আসেন তেড়ে।

আমি বেকার আছি চেয়ে দেখ যত আন্ধা শালা

সরকার কথা শুনো মোর কানে মেরনা তালা

যদি মারো তালা ওগো প্রিয় সরকার

তবে বলে রাখি বঙ্গভবনে পরমাণু মেরে করে দেবো ছাড়খার।

 

ওগো সরকার -জনতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আজ,

সকল বেকার যু্বকের হয়ে পেতেছি দু’হাত

যদি ফিরিয়ে দাও আজ এ হাত আমার

তবে বলে রাখি সকল বেকার মিলে

উষ্ঠা দেব তোমায় গদি কেড়ে নেবো তোমার।

ওগো মহামতি সরকার আমি বেকার বসে কাঁদছি ঘরে,

তোমার পাচাটা বিশ্বসেরা ধনী হয়েছেন আমার হোগা মেরে।

ওগো সরকার আমি ভাত,চা খাইতে পারিনাই টাকার অভাবে,

তোমার পাচাটা ম্যাকডোনাল্ডে কফি সাটিয়েছে আমার একশ ত্রিশ কুটি মার্কিন টাকা পকেট ভরে ।

আমি একশ ত্রিশ কুটি টাকার হিসাব চাই,

কেমন করে এই হত দরিদ্রের দ্যাশে মুখের খাওন ছিনায়ে নিয়ে

তিনি বিশ্বসেরা ধন কুবের হইলেন আমি পাইস টু পাইস হিসাব চাই।

যদি বলেন হিসাবের খাতা হারায়ে ফেলেছি তবে আমি ভেবে নেবো

দেশের বেবাক পিপলের হোগা মেরে আপনে আজ মহামারী মহাজন সেজে উপভোগ করতাছেন পৃথিবী তাড়ায়ে তাড়ায়ে।

খবরদার আপনার পালা বুদ্ধিজীবা আপনার পালা পন্ডিত আমার সামনে হাজির করবেন না!

শত শত পন্ডিত গোয়া মেরে আজ তালবেলেম থিকা পুরোদস্তুর পন্ডিত হইয়াছি;

একটা সময় গেছে পারার চায়ের টঙে প্রতদিন দু-একটা পন্ডিত জন্মাইছি-

আমি যহন পারার বুদ্ধিজীবীদের বাপ

আর তখনো টোলে মেধাহীন ছাত্রদের ঠ্যাঙায় পন্ডিত সাপ।

পন্ডিতেগো বিদ্যাবুদ্ধিতে ঠাডা পরুক,ক্লাশ অন টুর বইতে-তে সীমবদ্ধ পন্ডিতগণ বিদ্যে বুদ্ধির জাহাজ সাজতে চায়

তাইতো কবিদের আসরে,বুদ্ধিজীবীদের আসরে খালি,গোয়ামারা খায়।

তাই দয়া কইরা পন্ডিত দিয়া আমার অধিকার আমারে বুঝাইতে আসবেন না।

পুঁজিপতিরা পন্ডিতগণের হেল্প এ জগতের মাথা সাইজা বইসা আছেন।

আল্লা ওদের লাই দিয়েছেন ওরা সেই লাই পাইয়া আজ গরীবুল্লাহর মাথায় উইঠা পেশাব করে।

গরীবুল্লাহ তখন প্রতিবাদ কইরা বলে;

আল্লা তুমি রাগ করবেনা কিন্তু,

ওরা চরম থিকা চরমে উঠে গেছে

এই যে পুচকে বান্দাটারে দেখো

এ যে লাই পাইলে মাথায় উঠে বসবে এ তাঁর বংশগত দোষ!

বান্দরের ছাও লাই পাইলে মাথায় উঠে

বাদাম ভেঙে খোসা ছাড়িয়ে খায়।

ছাগল শাবক লাফ দে তিড়িংতিড়িং

উঠে বসে লাফ মেরে বিধাতার কোলে

ভেবেছে এ রাজ একাই করবে ভোগ

মালিক আবার লাই দিয়ে মাথায় তুলে

দুগ্ধভর্তি ফিটারে ভরে দেয় ছাগল শাবকের পেট।

পেট ভরে গেলে হালকা মুতে শুয়ে পড়ে ছাগোল ছানা বিধির’ই কোলে,

তীব্র মুতের গন্ধে বমি এসে যায় যখন বিধির,তখন ছাগোল ছানার পাছায় লাথি মেরে কোল থিকা নামাইয়া দেয় সে;

এত লাই দিয়ে, কোল থেকে ফেলে দেয়া জঘন্যতম পাপ কিনা বল?

 

৪.

কবি সভায় গিয়াও গরীবুল্লাহর কোন চান্স নাই;

আসন গাইড়া বইসা আছেন পুঁজিপতি

গ্রাম্য ভূত কইয়া কবিসভা থিকা বাইর কইরা দেওয়া হইবো তাকে প্রস্তুতি চলতাছে।

গরীবুল্লা না ছাড়নের মত ,আর্তনাদ কইরা সে জোড় প্রতিবাদ করতে শিখছে এখন;

কয়েকটা পতিতালয় নিয়া একটা শহরের আর্তনাদে মরাপ বাঁশির সুরের মত লাগে এ শহর,

ঘুমন্ত চোখে ঢুলঢুল শরীরে মর্মবাণী প্যাঁপু বাজে

ওকি ছবিয়ালের শয়তান চোদনা দিনকানা হরিজন বিলাতির পুত

শহরের পতিতালয়ে থাইকা গ্রামের আমারে কয় ভূত!

ইদানিং নব বালে ছয়লাব গুরুজন জ্ঞানের সাগরে কবিদের চোদনে কবিতা লিখে লিখে,

শহরের গোয়ামেরে হাতে দেয় হারিকেন ধরিয়ে।

গাঁজাটেনে রাজা সেজে গ্রামের আমারে কটাক্ষ করে।

চুদিপাদি রাজা বৌদী ইত্যাদি কবিতার ছলে ;

জুটিয়েছ চামচা মুখে মুখে ওরা সব ওহীসম মনে করে।

কবিসভায় গরীবুল্লাহর আর থাকা হইলো না সে মে দিবসের জনসভায় তাঁর অধিকারের দাবী নিয়া গেলো;

শ্রমিকের ঘাম গড়িয়ে মুখে পরে নোনতা স্বাদে মুখ থিতু হয়ে যায়

বক্তার বকবকে কান ফেটে চৌচির হয়।

তুমি বক্তা বকবকে ১ টা বেলা,

শ্রমের মূল্য দিতে ফাল পারো ম্যালা।

সাম্বাধিক সকল কলম হাতে

ফোয়ারা লিখে যায় তোমার -তুলে দেয় সম্পাদকীয় পাতাতে,

শ্রমিকের বাকিবেলা চলে যায় লাথি গুতোতে।

কখনো বা বড় সাব পাট করে পিটিয়ে।

ঐ যে শ্রমিকের দলের সমাজতন্ত্রী ভাইজান

মুখে ছোটে তীব্রবুলি -শ্রমিকের তরে দিয়ে দেবে জান!

হু হা হা হা হা হা হেসে হই খুন

শ্রমিক মোটে একবেলার বাকি বেলা হালারপুত।

এই যে আমরা আল্লার দুনিয়ায় থাকি এখানে আমাদের কেহ পুছেনা

গরীবুল্লাহ গরীব ক্যানো এই প্রশ্ন তোলার কেউ নাই।

অথচ আইনসভা বিধান দিয়া বলে-ধনীগরীব কোন ভেদাভেদ নাই,

আইনসভার লগে ধর্ম যোগ হইলো দুইতত্বে গরীবি থিকা গরীবুল্লাহর কোন রক্ষা নাই।

নিরাপত্তা নাই তাঁর তিলে তিলে গড়া সামান্য সম্পদের।

লোভী পুঁজিপতিরা তখন মনে মনে হাইসা ওঠে;

চালের কেজি এক হালী ডিমের দর ওরা ঐ কংকালসাররা ভাত খাচ্ছে কেন ভাতের দরে ডিম খেয়ে বড়লোকের বাচ্চাদের মত বল্ডি বিল্ডার হোক।

যদি বডি বিল্ডার না হইতে পারে খাইয়া,ভাতের জন্য সংগ্রাম করবে কি দিয়া?

বুটের আঘাত কিংবা লাঠিচার্জ সইতে পারার মতন একটা সুঠম দেহ চাই আগে।

এখানে এ রাজ্যে পুলিশি পাহাড়ায় থাকে চালের গুদাম।

চল বডি বিল্ডার হয়ে চালের গুদামে চালাই আক্রমণ,চাল এনে ভাত খেতে হবে।

শ্রেণী সংগ্রামে করা নাকি পূর্ব স্বভাব এ মানুষের চল তাহলে দেরী কেন?

 

আদম হাওয়া

——————–

একদিন আল্লাহ্পাক ডাকি বলেন‘ ওহে ফেরেশতা

দুনিয়ার পরে পাঠাইবো আমি খলিফা,’

কেন পাঠাইবেন ওগো প্রভূ আমরা তো আছি;

আল্লাহ্ মহান বলেন তখন,আমি যা জানি তোমরা জানো কি?

সব ফেরেশতা চুপ রইলেন প্রভূর কথার পরে,

অবশেষে মাটি দিয়া প্রভূ বানাইলেন আদমরে।

বানাইয়া মাটির আদম রূহ ফুৎকার করে,

কহিলেন ফেরশতারা সেজদা দাও আদমেরই পরে।

সকলে সিজদা করিলেন ইবলিশ করিলনা

প্রভূ তখন কহিলেন, ইবলিশ আদমের পরে কেন সিজদাহ দিলেনা?

আগুনের ইবলিশ গর্ব করে কয়,

আদম মাটির ঢেলা আমি আগুনের, কত শত ফারাক আছে উভয়ের!

প্রভূ রাগিয়া গেলেন ;ওরে বেঈমান ইবলিশ দূর হাট দূর হাট বেহেশত তোর না

ইবলিশ তখন খোদার উপর চ্যালেঞ্জ দিয়া গেলো চলিয়া।

বেহেশতে আদম আছে,একলা বড় লাগে;

প্রভূর খেলা পুরুষ নারীর প্রেম কেবা বুঝতে পারে?

একলা আদম ঘুরে ফিরে হেথা হোথা যায়

একলা আদম ফলফাকরায় শান্তি নাহি পায়

কি যেন একটার জন্য বড় বুকের মধ্যে ফাঁকা ফাঁকা লাগে;

এ যে সঙ্গীবীনা মনের কান্দন আদম কি বুঝতে পারে?

ঘুমাইলেন আদম একদিন এক ফাঁকে

আদম নবীর বাম পাজরের হাড্ডি দিয়া বানাইলো হাওয়ারে

জাগলে নবী, কইলেন আল্লাহ শোন ওগো আদম

বেহেশতে একলা নাজেহাল তুমি বানাই দিলাম বেগম।

দুইজনাতে ঘোরো ফিরো বেহেশতের ভিতরে;

খাও যত যা খুশি তোমার খাইওনা ঐ গন্দম।

আদম হাওয়া দোকলা হইয়া বেহেশত তে ঘোরে,

এদিকে ইবলিশ ব্যাটা ঈর্ষায় পুড়ে মরে।

একদিন ঘটিল এক দুর্ঘটনা বলি শোন,

আদম হাওয়া ঘুরে ফিরে গন্দম তলা যায়

গন্দম তলা গিয়া পরলো শয়তানের ধোকায়

দুইজনে খাইলো ঐ নিষিদ্ধ ফল গন্দম।

লজ্জা তাদের প্রকাশ পাইলো ;চটিলেন প্রভূ বড্ড আদম হাওয়ার পরে

ওগো আদম হাওয়া মানলেনা তোমার প্রভূর নিষেধ

খাইলা গন্দম নিষেধ উপেক্ষা করে

বেহেশত থেইকা বাইর হয়ে যাও অভিশাপ তোমাদের উপরে।

প্রভূ মহিয়ানা, আদম হাওয়ারে বাইর করে ফেলাই দিলেন একজোড়া দুই পানে

পোশাক ছাড়া আদম হাওয়া ঘুরে বেড়ায় আর প্রভূর তরে কাঁদে।

একদিন পাইলো দেখা তারা একে অপরের ;প্রভূর তরে কাঁদতে লাগলেন দুই জোড়া হাত তুলে,

প্রভূ মাফ করে দেন পথভ্রষ্ট হইলাম ইবলিশের ও ধোঁকায়

ক্ষতিগ্রস্তদের কাতারে নিওনা মাফ করে দেন ভারী এ কাঁধ পাপের ও বোঝায়

প্রভূ রহমান দুইজনার কান্দন শুনিয়া

আদম হাওয়া দুই জনরেই নিলেন ক্ষেমিয়া।

পূণরায় করিলনা তবে বেহেশত বাসী

করিলো দুনিয়াতে তার আপন প্রতিনিধি

আল্লাহ্’র সেই প্রতিনিধি হইতে আজকের মানবজাতী।

 

 

 

 

আবুল বাসার ছানী

——————————

 

একদা ইরাকের মূসেলা শহরে

খোদার নামে মানব মূর্তি পূজো চলছিলো ব্যাপকহারে।

পুরা কালের কিছু আল্লাহ্ ভীরু মোমেন বান্দা;ওয়াদ,সুওয়া,নাস্র,ইয়াউক,ইয়াগূছ

দীর্ঘকাল তাহারা খোদার উপর অটল থেকেছে

নফকের ধোকায় নূহের সম্প্রদায় তাহাদের পূজো করছে।

হযরত নূহ কে প্রভূ পরোয়ার দেগার পাঠাইলেন ভ্রান্ত মানুষ্যের তরে,

যত করেছে পাপ থামতে বল নূহ বল আল্লাহ্ আছেন সবার উপরে

দুনিয়ার প্রথম রাসূল আল্লা পাঠাইলেন মানুষের তরে

৪০ বছরে তিনি নবুয়ত পাইলেন

৯৫০ বছর শুধু দ্বিন প্রচার করলেন

৯৫০ বছরে তেমন কেউ আনিলনা দ্বিনে বিশ্বাস

নূহ আছেন চিন্তায় কালো হয়ে আছে জাতীর ভবিষ্যৎ!

কোন মতেই না আনিল দ্বিন,স্ত্রী আর পুত্র কেনান

পৌত্তলিকদের সাথে মিলে বাবাকে পিটান!

আল্লা বেজার হইলেন; বেঈমান জাতী এত সুযোগেও তোরা আনলিনা ঈমান

প্রস্তুত হ তবে আমার গজবের তরে করছি আহ্বান।

অাবুল বাসার ছানিকে আল্লা ওহে আমার নূহ কিস্তি বানাও বড় আসিতেছে গজব-

দুনিয়ার পরে কাফেরের লাগি নাই স্থান পরকালেও রয়েছে ভয়াবহ আজাব।

নূহ করিলেন কিস্তি আবিষ্কার আল্লার আদেশে

করিলেন প্রচার;ওহে স্বজাতী দ্বিন আনো না হয় তোমাদের তরে আল্লার আজাব আসিতেছে।

আল্লাহ্ বলেন ওগো নূহ;বানাও কিস্তি আর সুপারিশ করোনা তাহাদের যারা করিল সীমালঙ্ঘন,তারা তো নিমজ্জিত হইবে।

মশকরা করে ওরা নূহের কথা শুনে-

ওহে নূহ,

তুমি কি এমন কিস্তি গড়িয়াছো যাহা এই মরুভূমিতে বিচারণ তুমি তো এক মহা বোকা,

তুমি তো এক আনকোড়া পাগল ওহে নূহ ভয় দেখাইওনা;সবে শোন নূহ চালাইবে মরুর বালুতে নৌকা!

নূহ বলেন;ওগো সম্প্রদায় আল্লাহ্ দয়াময় তাহার শাস্তি কি আছে তোমার অধিকারে?

রাসূল হয়ে আসছি আমি তোমাদের পরে;ইচ্ছা করিলেই প্রভূ মহান সব ঘটাইতে পারে।

নূহের ছিলো অবিশ্বাসী এক পুত্র কেনান নামের

সীমালঙ্ঘণকারীদের সঙ্গে আতাত ছিলো ঈমান ছিলোনা আল্লার উপর!

একদিন নূহ করিলেন সুপারিশ,প্রভূ ক্ষমা করে দাও তাঁকে

প্রভূ নূহকে হুশিয়ারি করিলেন, আমি যথেষ্ট জ্ঞান দিয়াছি নূহ তোমাকে

যার প্রতি তোমার কিঞ্চিৎ জ্ঞান নাই তুমি তাহা নিয়া কথা বলিও না

নূহ ভুল বুঝতে পারিয়া কইলেন,ওহে প্রভূ যে বিষয়ে কিঞ্চিৎ জ্ঞান মোর সে বিষয়ে অনুরোধ না করি পানাহ দিও।

নূহ কহিল ও অবুঝের দল দেব দেবীর পূজো করিও না

অবুঝ জেহেলের দল নূহের কথা শুনিলনা-

শুনিলনা কথা যত মূর্খের দল; নূহ হইলেন আদেশ প্রাপ্ত

বলিলেন আল্লাহ্, ও আমার নূহ কিস্তিতে ওঠ নিয়া প্রত্যেক প্রাণী হইতে একজোড়া আর অনুসারী আছে যত।

নূহ উঠিলেন কিস্তিতে অনুসারী প্রভূর আদেশে

উঠিতে লাগিল প্রভূর আজাবের পানি তলদেশ হইতে।

মাঠ ভাসিলো ঘাট ভাসিলো ভাসিলো যত অবিশ্বাসীর দল

প্রভূর সঙ্গে পাঙ্গা নিয়া পাইলো করুণ ফল।

পৃথিবীর মাঝে শুধু রইলো নূহের কিস্তি ভাসমান

আর কিছু নাই পুরো পৃথিবীতে শাস্তি দিলেন প্রভূ রহমান।

ভাসিতে ভাসিতে নূহের কিস্তি একদিন থামিল জুদি পর্বতে

বলে প্রভূ সূরা হুদের ৪০ নং আয়াতে সাক্ষী রইলো কোরআন-

এবং কাজ সমাপ্ত হইলো,জাহাজ হইলো জুদি পর্বতে স্থীর, এবং বলা হইলো ধ্বংসই সীমালঙ্ঘনকারী কওমের পরিণাম।

 

 

 

আব্বা

——————–

আমার আব্বাকে আর আমার সহ্য হয়না এখন,

সাদা দাড়িতে দরিদ্র একটা অবয়ব;ছেড়া পাঞ্জাবীতে ঢাকা টুপিতে কালো ময়লা;

আল্লা আল্লা রবে সারা বাড়ি মাথায় তোলে রাতে ঘুমাইতে পারেনা –

কংকালসার দেহে রাত্রে বিলাপ করে তবুও কয়না বাপ একটা টাহার অষুধ আইন্না দে খাইয়া মরি।

আমি কই,বুইড়া কোকায় কেন;মরণ আসছে নি?

নাকি আজরাঈল ভাই দেখা দিছে ‘ল বুইড়া অযতন থেইকা তোর ছুটি!’

এইতো সেদিনকার কথা -আব্বা আমার যেদিন জোয়ান ছিলেন,

আমারে কান্ধে নিয়া দৌড়াইতেন আর বলতেন

‘ ম্যাজিস্ট্রেট হবি যখন এইরাম প্লেইনে উড়বি বাপ।’

আমি মজা পাইয়া খলখল কইরা হাসি দিছি আর আব্বায় কইছে খাড়া অহন গাড়িতে চড়ামু-

তারপর উপুর হইয়া গাড়ি হইছেন,আমি ভুল করে ঘোড়া ভেবে পিঠে থাপড়াইলাম কিছুক্ষণ!

রাত্রে ঘুমাইছি আর ঘুমের মইধ্যে মুখে কমলাটা টিপে রস বের করে বলতেন,

না খাইয়া ভিটামিন, পোলাডার স্বাস্থ্য দ্যাখছো তো ইয়ার মা?

আস্তে আস্তে আমি বড় হইলাম,

আর আমার আব্বায়ও কেমন যেন পাল্টাইলো,

এখন আর তিনি ঘোড়া হন না।

এইতো সেইদিন আব্বায় আমার চিকরাইয়া আমারে শাসন করতেন আর বলতেন-

‘স্কুলে না গেলে দুবেলার খাওন বন্ধ দেখি ভাত দেয় তোর কোন বাপ!’

ডরে যখন সন্ধ্যায় ও ঘরে ফিরিনা -কুপি হাতে ছদরুলের বাড়ি খুঁইজা আমার বাইর করলেন-

দুইটা চটকনা দেওনের পর দেখি আব্বার চোখে পানি,

এই পানির মানে কি আমি জানি।

তারপর আর আব্বা আমারে মারেন নাই জীবনে।

আমার আব্বারে দেখছি,পড়ছি আমি তিনটাতক আর কুপি নিয়া তিনি দাঁড়ানো শিয়রে,

পরীক্ষা দিছি পকেট ফাঁকা -তব সুদখোর বেল্লাল মাঝির কাছ থেইকা টাকা এনে দিলেন পকেট ভরে।

 

আমি কি করছি?

সেই টাকা ভাংছি আর বন্ধু নিয়া খরচা করছি বিপথে

অথচ টাকার সঠিক সময়ে শুধতে না পাইরা গালি ঘাড় থাক্কা খাইছেন আমার বাপে।

তয় একখান কথা,

আমার বাপ কিন্তু আগের মতন আর নাই!

এখন,

ময়লা শ্যামলা গায়ে সৌদীর আতুরের ঘ্রাণ

শাদা দাঁড়ি ভর্তি মুখ

সবই আমার নিষ্পাপ ঠ্যাহে,

জুয়ান আর নাই, নাই আগের মত চোট

বুড়া হইছে আমার বাপে।

প্রত্যেকটা বেয়ান বেলা আমি হুনি

নামাজের তাকবীর আর কান্দনের ধ্বনী।

বুড়া বাপের কান্দন আমার আর সহ্য হয়না যেন ক্যান!

আহ আমার বাজান আমার বাজান তুমি এত বুড়া হইলা ক্যান?

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

2 thoughts on “সজল আহমেদ এর কবিতাগুচ্ছ-১”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s