সজল আহমেদ এর কিছু কবিতা


বাবার হিয়া

-সজল আহমেদ

IMG_20170702_213558_095

একজন বাপ এই কি চায়, তাঁর অসুখের রাত

ছেলে নাক টেনে দিব্যি ঘুমিয়ে রাত কাটাক?

অথচ পেকেছে ঘুম ছেলের বাবা আস্তে আর্তনাদ করে,

ঘুম যেন না ছোটে বাবজির তাঁর, কি ঘুমান ঘুমাচ্ছে শান্তির আহারে!

 

কোরান পাঠ আমার শোনে প্রেয়সি

ইয়াসিন টান মারি চার আলিফে দেখি প্রেয়সির মুখ,

আহা!আমি তো হারিয়ে গেছি হামজার টানে

প্রেয়সি কি গোপনে আমার পাঠ শোনে?

রেহালে কোরান মজীদ, বাহিরে প্রেয়সির মুখ!

আস্তেধীরে পাল্টে গেছে কোরানের সুর-

প্রেয়সি কি বাইরে দাঁড়িয়ে শুনছে কোরান পাঠ?

কোরানের সুরে প্রেয়সির সাথে কি মোহিত হচ্ছে ঐ চাঁদ?

তাহলে ভোকালে একটু অতি সুর আনি-

কে জানে প্রেয়সি মোর কোন আলিফের টান কাছে টানে!

 

বর্ধিত ঋন

আমারে মাগো জন্মায়েছো।

ক্লেশ করেছো,শ্লেষ করেতো ফেলে দাওনি!

এ ঋন শুধিব ক্যাবা?

ভাবি তা!

খোদা কিছু ঋন পয়দা করেন,সারাকাল গতর খাটিয়াও যাহা শোধ হয় না!

সৃষ্টির ঋন তন্মধ্যে একটা।

খোদার ঋনের পর,আস্তে আস্তে বড় হইবার জন্য বাঁধা পরি মায়ের ঋনে।

তারপরে ঋন জোটে বাপের।

ক্লেশ করে সারাকাল যিনি গড়েন আমারে।

আহা মানুষ আমি!

এত ঋনী হয়েও গর্বে নামেনা পাও ;লাগে যদি জমিনের ধুলি!

অথচ,জমিনের সন্নিকটে আমার আরাক ঋন!

এত ঋন নিয়াও পায়ের উপর ঠ্যাং তুলে বেশ কাটাই দিন।

আমি মানুষ!প্রকৃতই এই

শরমের ডর দেখাও আমারে?

শরমের পাত্র তো আমি নই।

 

ফাইজা চল বৃষ্টিতে ভেজো

ফাইজা।

বৃষ্টিতে ভিজি চল দুজন মিলে,

এই ঝুম বৃষ্টিতে চল ভিজি প্রসন্ন বিকেলে।ভিজবে তুমি বৃষ্টির জলে ভিজবে তোমার আঁচল,

ভিজে আঁচলে জড়িয়ে নেবে দেহ ;ভেঙে যাবে মেঘের পাচিল।

ভেঙে পাচিল মেঘ গড়িয়ে বৃষ্টি পরবে ঝুম-

ভিজে গায়ে লাগবে যে বেশ;অনবদ্য খোপায় বাঁধা চুল।

যদি বৃষ্টি থেমে যায়!

অকারণ যেন তোমার মন খারাপ না হয়।

মিকাইলের ঘুম ভাঙিয়ে করব অনুরোধ বৃষ্টি দিবে আরো-

খোদাতালার বৃষ্টি পরবে-ভিজতে যেন পারো।

যেমন ঝুম বৃষ্টি হয়েছিলো নূহ নবীজির কালে-

নূহ নবীজির জিগারি দোস্ত হয়ে করবো অনুরোধ, খোদাতালা বৃষ্টি দেবেন ভিজবে এই অপরাহ্নে।

 

অলীক অসভ্য নগরে

মাংসের ঘ্রাণ ঘোরানো রাস্তায় আর বিস্বাদ ;

তোমাকে নিয়ে চলছি তো চলছিই অজানা কোন এক জংলায়,

যেখানে জরে জীব খায়!

আর আমাদের তেষ্টা পেলে পান করতে হবে চুমুকে চুমুকে নোনাজল।

খিদে পেলে খেতে হবে গুল্ম।

আর গুল্ম খেতে খেতে স্বাদ ভোতা হয়ে গেলে-

আমার গা থেকে একটুকরো মাংস খুবলে খেয়ে নিও।তোমার জন্য করব এটুকু সেক্রিফাইস।

এখানে পৃথিবীর সব সভ্যতা থেমে গেছে,

থেমে গেছে সময়-থেমে গেছে প্রেম প্রীত, আত্মীয়তা বলতে শুধু আছে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকো।

করুণা অকরুণা কি সেখানের কেউ জানে না।

এক জাহাজেই নাবিক খুন করে খালাসিদের অকারণ!

এখানে প্রেম কি কেউ বোঝে না,

তুমি আমিই হয়তোবা ঘাসের সাথে জড়িয়ে থাকা শিশির বিন্দু কে প্রেম শিখাবো।

আর এরাই হবে এ নগরীর প্রথম প্রেমিক যুগল।

এ নগরীতে কোন বাড়িঘর নেই,

দলবেঁধে সবাই ঘুমিয়ে পরে শুকনা ঘাসের উপর।

সন্ধ্যে নেমে আসলে এখানে ভোর হয়-দলবেঁধে নেমে পরে খাদ্য সঞ্চয়ে।

দিব্যি ঘাস খেয়ে কাটিয়ে দেয় পিঁপড়ে ও পাখিরা,

শুকনা গাছের ডাল খায় জীব ধরে।

পাখিরা যে এলাকায় থাকে,

হলদে মাছির ছানারা সেথায়ই খেলা করে নেচে।

গুনগুন গান গায় ভ্রমরার দল-

বাঁশি বাজিয়ে চলে মশা বাহিনী ।

আর বাদুড়েরা দলে দলে যায় রক্ত স্নানে।

সঁচারিত করবো সভ্যতারে, এক বিন্দু নাপাকির সাথে জন্মাবো ভবিষ্যৎ সভ্যতারে।

যে এ নগরী পাহাড়া দেবে সভ্যতার ঝান্ডা নিয়ে।

 

এষামিলা

১.

হাবীবি আমার! হইয়া যাও তুমি খাজুরের ফুল।উঠানে দাঁড়িয়ে শীতের চাদড়ে নিজকে জড়াবো উফ কি ঠান্ডা!তোমারে দেখিবো আর প্রশ্নবানে জর্জরিত করে কইবো “ওগো এষামিলা তুমি শীতের সকালে এতো সুন্দর ক্যানো? কিভাবে হও? কার জন্য হইয়া ফুইটা থাকো কন্টক ভরা খাজুর গাছের মাথায়?” আমার বকবাকানিতে তুমি মৃদু হাসবা আর টালমাটাল দুলবা শীতের ঠান্ডা বাতাসে।

২.

এষামিলা তোমারে আমি আহ্বান করতে থাকবো…তুমি শরমে শরমে শীতের ঠান্ডা শিশির চুমুকে পান করে আবার মুখ ঢেকে নিবে খাজুরের খোলে। খাজুরিয়াল তোমার যৌনি থেকে রস সংগ্রহ করবে।

৩.

আমরা গ্লাশ ভরে চুমুকে চুমুকে পান করব সে রস!বাদুড় আমাদের আগে হয়ত এসব চেখে দেখে।চেখে দেখে শালিক। তুমি তাকিয়ে ওয়াক দৃষ্টিতে,মানুষ্য শাবক আমার প্রেমিক সহ কি গিদার!কি গিদার!

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s