এষামিলা সিরিজ-পাণ্ডুলিপি


20170815_125433-picsay.png

[পিডিএফ হিসাবে ডাউনলোড করুন-এষামিলা]

এষামিলা

সজল আহমেদ

এষামিলা কথন 

এষামিলা একজন নারী, যাঁরে আমি স্বপ্নে দেখি কিন্তু আদতে সে আছে কিনা আমি জানি না! তাঁরে আমি সর্বদা স্মরণ করি দিল থিকা। আমার আর তার লগে ব্যবধান খালি কল্পনার একটা পর্দা! সে আমার কবিতায় ভাসে। দেখতে সে অতীব সুন্দরী! হাসলে তাঁর গালে একটা টোল পরে। সেই টোল অবলম্বন কইরা আমি হাজার বছর বাইচা থাকতে পারি। পৃথিবীর সব টোলপরা প্রেমিকাদের মধ্যে আমি এষামিলারে দেখি। পৃথিবীর সব টোলপরা মেয়ে হোক এষামিলা।

সজল আহমেদ

১৫/০৮/২০১৭

 

১৪ই আগষ্ট ২০১৭

এষামিলা কে?

কি তাঁর পরিচয় আমি জানি না!তবে জানি,সে একটা শুভ্র মেঘ।আর তাঁরে আমি ছুঁইতে চাই গভীর মায়ায়।আমি শুধু চিনি তাঁর হাসি।যে হাসিতে চন্দ্রেগ্রহণ লাগে আর তারারা খসে পরে।

এষামিলা একটা কাগজের নৌকা, যদিও কাগজের নৌকায় জল ওঠে বারবার তবুও তার, কদর আমার কাছে ঢের।

আমি একটা বামুন তারা আর এষামিলা এই উপগ্রহের দ্বিতীয় চাঁদ হিসাবে আমার আকাশে রোজ উঠে।

আমি বারবার চাঁদ ছুঁয়ে যেতে চাই বামুন তারা হয়ে,আমার চাঁদ বারবার আমাকে অবহেলা করে। চাঁদ একবার ছুঁইলে তোমার ক্ষতি কি? নাকি আমাকে তোমার কলঙ্ক ভাবো?

এষামিলা নিশ্চুপ হয়ে থাকে-আর আমি তাকে বারবার উত্যাক্ত করি। এষামিলারে উত্যক্ত করে আমি ভালো থাকার অভিনয় করি।

 

 

 

 

 

২৯শে জুলাই ২০১৭

১.

হাবীবি আমার! হইয়া যাও তুমি খাজুরের ফুল।উঠানে দাঁড়িয়ে শীতের চাদড়ে নিজকে জড়াবো উফ কি ঠান্ডা!তোমারে দেখিবো আর প্রশ্নবানে জর্জরিত করে কইবো “ওগো এষামিলা তুমি শীতের সকালে এতো সুন্দর ক্যানো? কিভাবে হও? কার জন্য হইয়া ফুইটা থাকো কন্টক ভরা খাজুর গাছের মাথায়?” আমার বকবাকানিতে তুমি মৃদু হাসবা আর টালমাটাল দুলবা শীতের ঠান্ডা বাতাসে।

২.

এষামিলা তোমারে আমি আহ্বান করতে থাকবো…তুমি শরমে শরমে শীতের ঠান্ডা শিশির চুমুকে পান করে আবার মুখ ঢেকে নিবে খাজুরের খোলে। খাজুরিয়াল তোমার যৌনি থেকে রস সংগ্রহ করবে।

৩.

আমরা গ্লাশ ভরে চুমুকে চুমুকে পান করব সে রস!বাদুড় আমাদের আগে হয়ত এসব চেখে দেখে।চেখে দেখে শালিক। তুমি তাকিয়ে ওয়াক দৃষ্টিতে,মানুষ্য শাবক আমার প্রেমিক সহ কি গিদার!কি গিদার!

 

 

১৮ জুলাই ২০১৭

এষামিলা!

কাল রাত থেকে আমিও স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম।সে স্বপ্ন নদীর মত বইতে বইতে চলে যায় অচেনা কোন এক মহাসাগর থেকে মহা জগতে!সেখানে তোমাকে পাই আমার পতি রূপে!তুমি কর্তৃত্ব গ্রহণ করে বোসে আছো সবুজ ঘাসে।

আর আমি উড়ে ছুটে চলি তোমার শাড়ির আঁচলে।আমার কোন কাজ নাই তোমার শরীরের গন্ধ শোঁকা ছাড়া।তুমি সেই মৃদু হাসি দাও।তোমার টোলপরা গাল নিয়ে আমি সেই স্বপ্নের মাঝেও হারিয়ে যাই আরাক স্বপ্নের গভীরে!

 

 

 

 

 

১৯শে জুলাই ২০১৭

আসসালামু আলাইকুম হাবীবি ও এষামিলা!তুমি গোলাপ হইয়া ফুটে আছো আমার ফুলের টবে।উঠন্ত যৌবনা গোলাপি গোলাপ।তোমার ঠোঁট হইয়া আছে গোলাপের পাপড়ি।তোমার নরম কাঁটায় আমার হাত বিঁধলেও,কেমন যেন সুখ অনুভূত হয়।আমি তোমারে কত সালাম দিই,নতজানু হই তোমার কাছে।তোমার কোন জবাব নাই।বার বার গোলাপের গায়ে লেপ্টে থাকতে দেখি তোমার সেই টোলপরা গালের হাসি!এষামিলা হাবীবি আমার তুমি ফুল হইয়াই থাকো।নিত্য পূজারী হিসাবে আমি সেই ফুল যত্ন নিবো।

 

 

 

 

 

 

২৫শে জুলাই ২০১৭

আজ থেকে চৌষট্টি বচ্ছর চৌষট্টি দিন পরেও এষামিলারে আমি দেখিব টোলপরা নবযৌবনা কোন এক নারীরূপে।হাসিতে যার কলকল কইরা মুক্তা ঝড়বে।গায়ে বেহেশতি হুরির সুভাস।ইন্দ্রানির লাহান দৃষ্টি।গোলাপের লাহান অধর।নিষ্পাপ সেই হাসি।আহা!কি প্রাণবন্ত সেই হাসি!সেই হাসিতে আমি আবার ফিরা যাবো আমার সেই ওঠন্ত যৌবনে।আমি দেবো ঝিনুকের হাসি।ঝুলেপরা চামড়া পাইবে হরমন।সে টানটান হবে।শাদা পাকা চুল সে আবার কাচা হবে।

প্রত্যেক যুবতী টোলপরা নারীদের মাঝে,আমি দেখতে পাবো তাঁরে!আহা!তাঁর যৌবন শেষ হবে না চৌষট্টি কুটি বছরেও!ভালোবাসার বা ভালো লাগার যে কোন বয়োস হয় না এষামিলা!

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

২৪শে জুলাই ২০১৭ ইং

ইয়া এষামিলা!

খবরের কাগজ খুলে কি দেখলে প্রেম আমার?

বৌয়ের বটির তলে দিলো স্বামী প্রাণ, ছাই মুখে আশার!

তুমি কেন করছো ইতস্তত বোধ?

প্রেম আমার!সব নদীতে বহেনা একই স্রোত।

তুমি তো আমারে ভালোবাসো তবে কেন ভয়?

কেন কুঁকড়ে যাচ্ছ সীমাহীন লজ্জায়?

এসব বাজে নারীর লজ্জা তো তোমার নয়!

তুমি তো একান্তই আমার নারী,

যাঁর কোলে মাথা রেখে আমি রাত কাটাই,তোমাতেই আমার ধ্যান,

সেইসব কালো মেঘের দিনে গাই বৃষ্টির গান।

এষামিলা!প্রেম আমার!

তুমি তো আমারে ভালোবাসা তবে কেন ভয়?

কেন কুঁকড়ে যাচ্ছ সীমাহীন লজ্জায়?

ঐসব বাজে নারীর জন্য লজ্জা করা কি তোমারে মানায়?

 

 

 

 

 

 

২৮শে জুলাই ২০১৭

মাংসের ঘ্রাণ ঘোরানো রাস্তায় আর বিস্বাদ ;

তোমাকে নিয়ে চলছি তো চলছিই অজানা কোন এক জংলায়,

যেখানে জরে জীব খায়!

আর আমাদের তেষ্টা পেলে পান করতে হবে চুমুকে চুমুকে নোনাজল।

খিদে পেলে খেতে হবে গুল্ম।

আর গুল্ম খেতে খেতে স্বাদ ভোতা হয়ে গেলে-

আমার গা থেকে একটুকরো মাংস খুবলে খেয়ে নিও।তোমার জন্য করব এটুকু সেক্রিফাইস।

এখানে পৃথিবীর সব সভ্যতা থেমে গেছে,

থেমে গেছে সময়-থেমে গেছে প্রেম প্রীত, আত্মীয়তা বলতে শুধু আছে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকো।

করুণা অকরুণা কি সেখানের কেউ জানে না।

এক জাহাজেই নাবিক খুন করে খালাসিদের অকারণ!

এখানে প্রেম কি কেউ বোঝে না,

তুমি আমিই হয়তোবা ঘাসের সাথে জড়িয়ে থাকা শিশির বিন্দু কে প্রেম শিখাবো।

আর এরাই হবে এ নগরীর প্রথম প্রেমিক যুগল।

এ নগরীতে কোন বাড়িঘর নেই,

দলবেঁধে সবাই ঘুমিয়ে পরে শুকনা ঘাসের উপর।

সন্ধ্যে নেমে আসলে এখানে ভোর হয়-দলবেঁধে নেমে পরে খাদ্য সঞ্চয়ে।

দিব্যি ঘাস খেয়ে কাটিয়ে দেয় পিঁপড়ে ও পাখিরা,

শুকনা গাছের ডাল খায় জীব ধরে।

পাখিরা যে এলাকায় থাকে,

হলদে মাছির ছানারা সেথায়ই খেলা করে নেচে।

গুনগুন গান গায় ভ্রমরার দল-

বাঁশি বাজিয়ে চলে মশা বাহিনী ।

আর বাদুড়েরা দলে দলে যায় রক্ত স্নানে।

সঁচারিত করবো সভ্যতারে, এক বিন্দু নাপাকির সাথে জন্মাবো ভবিষ্যৎ সভ্যতারে।

যে এ নগরী পাহাড়া দেবে সভ্যতার ঝান্ডা নিয়ে।

 

 

 

 

 

 

 

১৫ই আগষ্ট ২০১৭

প্রিয় এষামিলা!

আসমানের পানে চাও।

আন্তরীক্ষ নিঃসঙ্গ হয়ে আছে দ্যাখো, গোমাড়ামুখী হয়ে, বিষাদের অজুহাতে যেকোনো ওকতে এক পশলা বৃষ্টি নামিয়ে দিতে পারে।

মেঘেরা পইপই করে হুশিয়ারি সংকেত দেয়, আসমানের চিত্ত অতিশয় খারাপ!

নিঃসঙ্গতা নিয়ে কোটি কোটি বছর, কাটিয়েছে সে, তাই যেকোন সময় ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ অথবা দুঃখে কিংবা জমানো নিঃসঙ্গতার উত্তাপে, বৃষ্টির বদলে উল্কা নিক্ষেপ করে ফেলতে পারে, আসমান কে বিশ্বাস করা এক প্রকার গোণাহ্!

একাকীত্বের ভারে এতদিনে আসমান চিড়েচ্যাপটা না হওয়ার রহস্য খুঁজি-কোন পাপে, কি কারণ, আসমান একা হলো, জানি না কি ভ্রম, আসমানের ছিলো যে; প্রভূ তাঁকে একাকী থাকার অভীক্ষায় ফেললেন!

সন্ধ্যায় আন্তরীক্ষে যে রুধী-ক্ষরণ দেখি লাল রঙে সয়লাব হয়ে শহীদ হোসেনের রুধীর ধারা ও সেই সাথে বয়, আমি তব্দা খেয়ে যাই এই ভেবে, যে; কত যেন খঞ্জরের আঘাত বুকে নিয়ে, কত বিচ্ছেদ-ক্ষোভ-কষ্টকে পুঁজি করে খুঁটিহীন আসমান ভেসে আছে!

প্রিয় এত কষ্ট যদি আজ কোন আদমীর হতো, তবে শতবার জন্মিলে শতবারই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হেসে হেসে চলে বরণ করে নিতো আত্মহুতি!

প্রিয় আমার যেন নিজেকে আসমান ভাবতে না হয়!

আসমানের মতো বিশালতা বা বিকাশ আমার নেই, নেই ধারণের অতি ক্ষমতা, নেই আসমানের মত অশেষ জল, যা ঝড়িয়ে আমার কষ্ট লাঘব হবে কিছুটা।

যদি আমাকে আসমান রূপেই দেখতে চাও, তবে অনুরোধ এই, যে; একটা খঞ্জর হাতে আমার ধমনি চিড়ে ফোটা ফোটা লৌ ছড়িয়ে দিও আসমানের গায়!

 

 

 

 

 

 

 

 

৮ই আগষ্ট ২০১৭

এষামিলা!

কান্না করলে যদি দিলের জরা যায় তবে আমি সারাকাল কান্না করতে চাই প্রিয়!কাঁদতে কাঁদতে চোখের নিচে কালি পরে যাক, আর মাটিতে জন্মাক ছত্রাক।আর সেই ছত্রাক থেকে জন্মাক ছত্রাকের ফুল।হাবীবি!তুমিও কাঁদতে যদি চাও ;আসো গলাবেঁধে কাঁদি দুজন,জরাকে ঠেলে পাঠাই অসুরের রাজ্যে যেখানে ভালোবাসা বলতে বোঝায় দেহের চাহিদা।

প্রিয়!মাটি থেকে মাটির ফুল ফোটে,আর ভালো লাগা থেকে অনুরাগ-আমাদের কান্না হবে অনুরাগের।তুমি কাঁদবে-আমি কাঁদব কান্নার রোল পরে যাবে জামানায়!আমাদের কান্নায় ৪০ লক্ষ ফারিশতাদের চোখেও আসবে জল!

 

 

 

 

 

 

৪ই আগষ্ট ২০১৭

এই যে “তুমি” লিখেছি-তাতে একটা পদ্য হয়ে গেলো বেশ অর্থপূর্ণ সে পদ্য!

তুমি নিজেই একটা কাব্য যেখানে নিয়মিত আমার কবিতারা চর্চা হয় নিজের মত করে।

লাল আসমানে তুমি শাদা মেঘ হয়ে ভেসে যাচ্ছ, আমি পদ্যের খাতা তখন ভারী করছি।

মেঘকে থেমে যেতে গিয়ে বলছি “মেঘ তুমি অদৃশ্য হয়ে চলতে দাও মোর প্রিয়তারে”!

 

 

 

 

 

 

 

 

 

১ আগষ্ট ২০১৭

এষামিলার সাথে হজির হলাম মেঘেদের রাজ্যে।সেই রাজ্যে রাজা-রাণী নাই, নাই জনমানুষ। মেঘরা হলো প্রজা।এষামিলা এখানেও কর্তৃত্ব গ্রহণ করলো।সে হলো রাণী আমি রাজা।অন্য নিয়মে এখানে রাণী-রাজা হিসাব।সে মেঘদের শাসন করতে লাগলো তাঁর নিজের খেয়ালে মেঘদের সাজাইয়া দিলো একেরপর এক!

আর আদেশ দিলো,জড়িয়ে থাকে যেন মেঘ যুগল।মেঘেরা বেশ উল্লাসিত বোঝা যায়!নতুন রাণী পেয়ে মেঘেরা ঘাড় পেতে মেনে নেয় আদেশ। খুশিতে তাঁরা এক পশলা বাদল ঝড়িয়ে দিলো।আমি আর এষা মিলা ভিজি সে বাদলে। আমি শুধু তাকিয়ে দেখছিলাম তাঁর কর্তৃত্ব খাটানি।ভেজা বৃষ্টিতে তাঁর নারীত্ব ফুটে উঠলো,ফুটে উঠলো যৌবনের রেখা! যতই সে কর্তৃত্ব খাটাক তার রূপে নেই কর্তৃত্ব নেই।তাঁরে লাগছিলো নেহাত ষোড়শী ভেজা বৃষ্টিতে।

আমি চাচ্ছি,মেঘেদের কর্তৃত্ব সে এখন আমার উপর খাটাক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

৪ আগষ্ট ২০১৭ ইং

এই যে “তুমি” লিখেছি-তাতে একটা পদ্য হয়ে গেলো বেশ অর্থপূর্ণ সে পদ্য!

তুমি নিজেই একটা কাব্য যেখানে নিয়মিত আমার কবিতারা চর্চা হয় নিজের মত করে।

লাল আসমানে তুমি শাদা মেঘ হয়ে ভেসে যাচ্ছ, আমি পদ্যের খাতা তখন ভারী করছি।

মেঘকে থেমে যেতে গিয়ে বলছি “মেঘ তুমি অদৃশ্য হয়ে চলতে দাও মোর প্রিয়তারে” মোর এষামিলারে!

এই যে “তুমি” লিখেছি-তাতে একটা পদ্য হয়ে গেলো বেশ অর্থপূর্ণ সে পদ্য!

তুমি নিজেই একটা কাব্য যেখানে নিয়মিত আমার কবিতারা চর্চা হয় নিজের মত করে।

লাল আসমানে তুমি শাদা মেঘ হয়ে ভেসে যাচ্ছ, আমি পদ্যের খাতা তখন ভারী করছি।

মেঘকে থেমে যেতে গিয়ে বলছি “মেঘ তুমি অদৃশ্য হয়ে চলতে দাও মোর প্রিয়তারে” মোর এষামিলারে!

 

 

 

 

 

Advertisements

One thought on “এষামিলা সিরিজ-পাণ্ডুলিপি”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s