শ্রম-শ্রম তুলনা। এ এক মহান আম্রিকা মানবতার বাফ!


Fold-us-flag-animated.gif

সম্প্রতি কিছু মানুষের দেখা পাই আমরা। যারা আম্রিকার সুরে কথা কয়। তাগো মতে আমরা আইলসা আর আম্রিকানরা কাজ করতে করতে মইরা যায়। আম্রিকা উন্নত আমরা অধম অমুকরে তমুকরে, টুইনটাওয়ার জঙ্গীরা ধ্বংস করছে ইত্যাদি………..

অর্থাৎ আমরা বাঙালীরা কেন আম্রিকান হচ্ছিনা, আমরা আইলসা, আমরা সব খারাপের মূল। আর আম্রিকা হইতাছে পূজনীয় মাল, তাগো দেবতার আসনে বসাইয়া পূজা করতে হবে। আমাগোর ফলো করতে হবে। আমরাতো জাতে মুসলমান আর এ জন্যই আম্রিকারে ফলো না কইরা আমাগো আর মধ্যপ্রাচ্য থেইকা জঙ্গী পয়দা হচ্ছে, মাথা উঁচা কইরা উন্নততর জাতী হইতে হলে আমাগো আম্রিকারে ফলো করতে হবে, ইত্যাদি তাগো মূল বয়ানে বিভিন্নভাবে সবক দিতে চাচ্ছেন তেনারা।

ওনারা কী গিলতাছে বা কী গিইলা আইসা অন্যর সাথে তর্ক করতে আসে। এইগুলার স্বরূপ কী? আমাগো জানা উচিৎ। “আম্রিকার মুখে ” কথা বইলা ওনারা বেশ নিজেগো প্রগতিশীল ভাবতে শুরু করছে আর এজন্য ওনাদের লজ্জা করে না। এগো লজ্জা অবশ্য কম থাকে। এরা সেই প্রকৃতির থিওরী দাতা যারা মনে করেন “পৃথিবীতে অনলি দুইটা শ্রেণী আছে। তাঁরা হইলেন উচ্চবিত্ত, বুর্জোয়া আর পেটিবুর্জোয়া। ” আরো যে কয়েকটা শ্রেণী থাকা দরকার বা আছে তা তাগো জানার বাইরে থাকে বা সেদিকে নজর যায় না। আমাদের দেশে উচ্চবিত্ত বুর্জোয়া-পেটিবুর্জোয়ার অলস উৎপাদন অক্ষম হয় এইটা তাঁরা ঠিক বলেন, কেননা তাদের গবেষণা চলে এই ৩ টা শ্রেণী নিয়া। তাগো লিস্ট থিকা বাদ যায় “প্রলেতারিয়াত শ্রমিকশ্রেণী”। যারা কিনা দুইবেলা খাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁরাই দেশের প্রধান উৎপাদক। অথচ তাদের নিয়া কোন গবেষণা চলে না, তাগো উন্নতি কিভাবে করা যায় এই নিউ গবেষকরা তা ভাবেও না। অথচ গালাগালির সময় বাঙালীর চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার কইরা ফেলতে তেনারা ভালোবাসেন বা আনন্দ পান।

আর আম্রিকা বিষয়ে তাগো বয়ান লেখালেখি দেখলেই ইচ্ছা হয় জিগাইতে “আম্রিকান পলিটিকস” সম্বন্ধে উনারা কতদূর কী জানেটানে! আম্রিকা থাইকাও পলিটিকস বোঝে না খোদ আম্রিকান পিপলসরাই। তাই মাঝেমধ্যে তাঁরা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব গিইলা স্বাধীনচেতা ইরাক, সিরিয়া, লেবানিজ আর প্যালেস্টাইনিয়ানদের গালাগালি করেন। কেননা তাঁরা হোয়াইট হাউজ, বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদদী প্রতিষ্ঠান আর এমবেডেড মিডিয়ার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন। যখন আম্রিকান পিপলসরাই আম্রিকার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন তখন আমাদের এই অতি প্রগতিশীলরাও একই সাথে দেশীয় এমবেডেড মিডিয়ার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হন। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন; বিবিসি, সিএনএন, ডেইলিমেইল বিবিধ পত্রিকায় ইরাকে হামলার ব্যাপারে যখন রিপোর্ট করে এইরকম “সিরিয়ায় আইএসএস এর ঘাটি লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফায় বোমা হামলা! নিহত ৫০ আইএস জঙ্গী, আহত ৮০!” আমাদের দেশীয় পত্রিকার রিপোর্ট ও হুবহু এইরকম হয়। কিন্তু যখন আপনি যখন ঐ হামলার ভিডিও দেখবেন কোন সঠিক সূত্রে বা ভালোভাবে হামলার খোঁজ নিবেন তখন দেখবেন হামলার স্থানটি ছিলো একটা হসপিটাল এবং ওখানের সব ছিলো বেসামরিক নাগরিক! তাহলে কী দাঁড়ালো? আমাদের পত্রিকা এমবেডেড মিডিয়া গুলারে সোর্স হিসাবে নিচ্ছে! কেন নিচ্ছে? আপনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন দেশীয় পত্রিকাওয়ালারা হুবহু খবরের জন্য মাসোহারা পান সাম্রাজ্যবাদী কোন না কোন প্রতিষ্ঠান থিকা। এবং এরাও আম্রিকার এমবেডেড মিডিয়া হিসাবে কাজ করে। আম্রিকা খুব ধূর্ত আপনার বুঝতে হবে। কিভাবে এরা বাজারে টিইকা থাকে আপনার পলিটিকস বুঝতে হবে। আম্রিকার পলিটিকস উপলব্ধি করতে হইলে আপনারে আম্রিকার পেছনের-সামনের মধ্যের সবকিছুর ইতিহাস আগে দেখতে হবে। ইতিহাস রাষ্ট্রের পলিটিকস এর বাহক। আপনার রাষ্ট্রের ইতিহাস পাঠ করে আপনার রাষ্ট্রের পলিটিকস এর ভবিতব্য কিছুটা আন্দাজ করা যাবে।

৩.

আর আমাগোর ভেকধরা প্রগতিশীলমনারা অন্য কী বলে, ইতিহাস কী বলে সেইটা ওনারা দেখবেনা। এইটা ওনাগো দোষ। আম্রিকা যা প্রচার করে, এমবেডেড মিডিয়া আর সাম্রাজ্যবাদীদের পাচাটা বুদ্ধিজীবিরা কী কইলো তাতেই ওনাগো সই! সাম্রাজ্যবাদী আম্রিকা যে কী কইরা এতো উন্নত হইলো, কাগো মাথা চিবাইয়া এতো উন্নত সেইটা ওনারা জানে না। ওনারা প্রশ্ন করতে শিখেনাই “কেন আমাগো ১ টাকার মূল্য ১ টাকা হইলেও আমাগো দেশে আম্রিকার ১ টাকার মূল্য ৮০ টাকা? কিংবা ইন্টারনেট অ্যাডভারটাইজমেন্টস এ কেন আমাগো এক ক্লিকের মূল্য ১ সেন্ট এর কম হইলেও একজন আম্রিকানের ক্লিক মূল্য ১৫-২০ সেন্ট?”

ওনারা আসে শ্রমে-শ্রমে তুলনা দিতে! আর শ্রম নিয়া বয়ান দিতে! “আম্রিকা” নিজেরে বাজারে টিকিয়ে রাখতে বা সম্রাজ্য লাভ করা ইত্যাদি সবকিছু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অন্যর রক্ত ঝড়ানোর মাধ্যমে। আম্রিকার পেছনের কথা আমাগোর ভেকধরা প্রগতিশীলরা জানে না বইলাই সাম্রাজ্যবাদী আম্রিকার লগে আমাগো তুলনা দিতে আসে। তুলনার আগে ইতাহাস থিকা আম্রিকারে প্রশ্ন করতে হবেঃ

ক) কেন আম্রিকা ইরাকের লগে ফাও যুদ্ধ করলো? এর মূলত কারণ কী? তাবৎ পৃথিবী বিশ্বাস করে না যে ইরাক আম্রিকায় বোমা হামলার যোগ্যতা রাখে। একমাত্র আম্রিকাই এইটা কেন বিশ্বাস কইরা ইরাকে হামলা করলো। কেন করলো? কারণ কী? কেন লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহ হারা করলো? কেন হাজার হাজার নারী শিশু হত্যা করলো? আম্রিকা যেইটা ভাববে সেইটাই কী শেষ ভাবা না তাইলে? আর গায়ের জোড়ে ভাইবা আক্রমণটাই কী সাম্রাজ্যবাদ এর চিহ্ন না? তাইলে আম্রিকা কাগো রক্ত পিইয়ে উন্নত হইতে লাগলো?

[নোম চমস্কির সাক্ষাৎকার নিয়া বই “ইম্পেরিয়াল অ্যাম্বিশনে” চমস্কি বলেন ; হিটলারের চেয়েও কম বিশ্বাসযোগ্য ছিলো আম্রিকার ইরাক আক্রমণ। ]

খ) জন.এফ কেনেডি যারে মনীষীরূপে জ্ঞান করা হয়, তিনি কেন কিউবায় হাজার হাজার মানুষরে হত্যা করলেন তা নিয়া কখনো প্রশ্ন না কইরা সেইটা মাটি চাপা রাখা হইলো কেন? আম্রিকার স্বরূপ প্রকাশিত হইবো বইলা? কিউবার হামলার কারণটা কী ছিলো? নিজেগো সাম্রাজ্যবাদরে প্রতিষ্ঠিত করতে নয় কী? তাইলে আম্রিকা রক্ত খাইলো না?

গ) আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে গায়ের জোড়ে আম্রিকা প্রথম পারমাণবিক বোমা ইয়্যুজ করলো হিরোশিমার নাগসিকায়! এই গায়ের জোড় কী সাম্রাজ্যবাদ না? লক্ষ মানুষ কী মারেনাই আম্রিকা?

বিভিন্ন ইস্যু সাজাইয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের মাথা চিবাইয়া হালের রাজা সাইজা আছে আম্রিকা। এখন সে অর্ধ পৃথিবীতে তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করছে। প্রায় দেড়শ বছর আগে আম্রিকা টেক্সাস ও মেক্সিকোর উপর কর্তৃত্ব গ্রহণ করছিলো। কারণ কী? কারণ সেই সময় তুলা ছিলো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আর টেক্সাসে তুলা সবচে বেশি হইতো। আম্রিকা টেক্সাসরে সাম্রাজ্যের অংশ হিসাবে নিলো এই জন্য যে, তুলার একচ্ছত্র অধিকার গ্রহণ করতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারে। এইভাবে যারা যখন সম্পদের মালিক হইলো, আম্রিকা তাগো উপর জোড় কইরা কর্তৃত্ব খাটাইয়া একচ্ছত্র মালিক বনে যাইতে লাগলো। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদ বলতে বা যুদ্ধবাজ বলতে আমরা শুধুমাত্র বুঝি ক্লিন্টন, বুশ, ট্রাম্প প্রমুখরে। মূলত আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদ মানেই শুধুমাত্র ট্রাম্প, বুশ বা ক্লিন্টন না। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদের পিছনে আছে কিছু প্রতিষ্ঠান তা রাষ্ট্র ও হইতে পারে কিংবা প্রতিষ্ঠান, যাঁরা কিনা সর্বাত্মকভাবে হেল্প করে আমেরিকারে যুদ্ধ ফাসাদ আর অন্যের সম্পদ অবৈধ দখলের জন্য। বাজার ঠিক রাখতে আম্রিকা যত অমানবিক কাজ আছে অনায়াসে করতে পারে। তাতে জাতীসংঘ ও মাথা গলানোর মুরোদ রাখে না! মোদ্দাকথা আম্রিকা একটা খামখেয়ালি মোড়ল হইয়া রাষ্ট্রসমূহের মাথা চিবুচ্ছে। জাতীসংঘ-ফাতিসংঘের চান্স নাই এখানে।

তাগো শ্রম লাগে না এমনিতেই বইসা বইসা মুনফা আসে। অবৈধভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্ররে তেল দিতে বাধ্য করছে তারা। তেল নিয়া ছলাকলা করলেই তার উপরে চড়াও হইছে আম্রিকা এবং শেষ পরিণামে রাষ্ট্রগুলা ধ্বংস করছে বোমা মাইরা, রাষ্ট্রে পলিটিকাল কোন্দল বাঁধাইয়া আরো কত কী কইরা। আম্রিকা তারেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বইলা আখ্যা দিছে যারা কিনা আম্রিকার আক্রমণের হাত থেইকা রক্ষা পাওনের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তাইলে আম্রিকা নিজের শ্রম খাটাইয়া কী বড় হইছে? নাকি সাম্রাজ্যবাদরে পুঁজি কইরা? তারপরও আমরা আমাগো প্রগতিশীল গো কাছে অলস! কারণ আমরা তো আর আম্রিকার মতো সাম্রাজ্যবাদী হইতে পারিনাই। অামাগো তাঁরা (নয়া প্রগতিশীলরা) অলস বইলা তিরষ্কার করে। আচ্ছা এত যে তাঁরা অলস অলস করেন আমাগো- কাজ না থাকলে কী করবে বাঙালী মানুষ? শ্রম আছে কারখানা নাই। শ্রমিকরে কর্মসংস্থান / কারখানা দেন। ধনী গরীবের পার্থক্য লোপ করেন। বড়লোকী কইরা আইসা অলস বলা যাবে ঠিকই কিন্তু এদের কাতারে আইসা নেতৃত্ব দেওয়ার মুরোদ আছে কী ডিয়ার?

আম্রিকায় ভূরি-ভূরি কর্মসংস্থান আছে আর তাগো মজুরি হইলো উচ্চমানের মজুরি। আমাগো শ্রমিকের মজুরি সেই অনুপাতে কিছুই না বললেও হয় না। আমাদের দেশে সিংহ ভাগের দৈনিক আয় হইলো ২ ডলার। আমাগো শ্রমিকদের সাথে বুর্জোয়ারা যারপরনাই খামখেয়ালিপনা করতেছে। তাঁরা(বুর্জোয়ারা) এত বেশি পরিমাণ উপার্জন করতেছে যে, সেই অনুপাতে শ্রমিকদের পিছনে অত্যন্ত, অত্যন্ত, অত্যন্ত কম ব্যয় করতেছেন! অল্পদামে শ্রম কিইনা বুর্জোয়ারা বেশি বেশি মুনফা অর্জন করতেছেন আর সেইটার প্রতিবাদ না করায় বুর্জোয়ারা ক্রমশ সুদখোর মহাজনদের আব্বা মহাজনের মতো মুনফাখোর হইয়া উঠতেছে। আবার মুনফাখোর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শ্রমিকরা বেতন বাড়াইনার আন্দোলন করলে সেইখানে সরকারী শেল্টারে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হয়! বলা যায় আমরা বুর্জোয়াতন্ত্রে আছি….

তো আমাদের “পাতি/অতি প্রগতিশীল” জনাবরা সেই শ্রমিকদের পাশে আইসা দাঁড়াইছেন কখনো? তাঁরা তো ভাই অলস না! মূলত যারা অলস অলস কইরা বাঙালীগো গালিগালাজ করেন তেনারা ঐ চিল্লা পাল্লা আর গালি-গালাজের মুরোদটুকুই রাখেন। বাস্তবে এরা ভারতের ভাষায় অষ্টরম্ভা!

নাইন ইলেভেন ইস্যুতে আমরা যখন বলি “এইটা বুশের একটা চাল ছিলো টিইকা থাকনের আর ইরাকের তেল মাগনা পাওনের। আম্রিকার সাম্রাজ্যবাদী খোলসের একটা রূপ মাত্র এইটা”! তখন ওনারা বলেন “উইকিপিডিয়া তে ১১ ই সেপ্টেম্বর নিয়া অমুক তথ্য আছে, উইকিপিডিয়া তে তমুক তথ্য আছে!” এ যেন উইকি সব কথার মানদণ্ড। আর উইকি যেটা বলছে সেইটাই শেষ দলিল!

উইকি সব লিগ্যাল তথ্য দেয়? উইকির FAQ পড়ছেন যারা তারা নিশ্চই জানেন যে, উইকিতে স্বীকার করে যে “তাদের সব তথ্য সঠিক নাও হইতে পারে।

এরপর ও অনেকে বলেন উইকিরে বিশ্বাস করা যায় এর সিংহ ভাগই নাকি সত্য! তাঁরা মনে করে, আমরা অনলাইনে আইসা উইকি টুইকি দেখি না, তাঁরাই দেখেন!

আপনি কী মনে করছেন আমি ঐসব জনাব, উইকি-টুইকি না দেইখা আপনার লগে ফাও তর্ক করতে আসছি? উইকিরে রেফারেন্স হিসাবে আপনি টানলে অনেক কিছু আপনের বিশ্বাস করতে হবে যা একদম অবাস্তব।

এরপর ও তাঁরা বলেন যে আমরা নাকি শাক দিয়া মাছ ঢাকতেছি! মানে ঐ টুইনটাওয়ার হামলা নাকি ইরাক বা সাদ্দাম দ্বারা হইছে।

শাক দিয়া মাছ ঢাকবো কী পাঠককূল? তাগো দূর্বলতা তাঁরা স্বীকার করেন যে ; তাঁরা যেইটুক জানেন সেইটুক বলছেন, আম্রিকার এমবেডেড জার্নালিজম তাঁদের যেটুক গিলাইছে তাঁরা সেইটুক ঠোঁটস্থ করছেন। এর বাইরে জানার সুযোগ তাগোর এখনো হয়নাই বা ইচ্ছা করেই জানেন নাই। ৯/১১ তো ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস “নতুন নিরাপত্তা কৌশল” ঘোষণার আগে ৯০% আম্রিকান বিশ্বাস করতো না যে “এইটা ইরাকের বা সাদ্দাম হুসেনের শক্তি আছে এই পর্যায়ের”। সেপ্টেম্বরে তাঁরা এমবেডেড জার্নালিজম এর মিডিয়াবাজ, বুদ্ধিজীবি ইত্যাদির দ্বারা এমন পর্যায়ে ৯/১১ নিলো যখন পুরা আম্রিকারে ভীত কইরা ফালানো হইলো যে “এই রকম হামলা ভবিষ্যতে আরো হবে”!

মানুষরে জোড় করে ইরাকরে ভয় পাওয়াইতে শুরু করা হলো এমনভাবে যে; তখন ৬০% আম্রিকান বিশ্বাস করা শুরু করলো এইটা ইরাকের কাজ। আর এখন পুরা বিশ্বের হুজুগেরা বিশ্বাস করে যে এইটা “ইরাক বা সাদ্দামের কাজ”! কুয়েত ও ইরান যাগো ইরাক আক্রমণ করছিলো, তাঁরা ইরাকরে হুমকি মনে করলো না। ইসরায়েলের দিকে তাক কইরা ইরাক জায়ান্ট কামান বানাইতে চেষ্টা করলো সেই ইসরায়েলরে ইরাক আক্রমণ করলোনা। তাঁদের(ভেক ধরা প্রগতিশীলদের) জঙ্গী আক্ষ্যা দেওয়া সেই ইরাক আক্রমণ করলো আম্রিকার টুইন টাওয়ার? বড্ড ফূর্তির কথা না ভাই?

স্বাধীনচেতাগো তাঁরা জঙ্গী কইবেন আম্রিকার গলায়। বড়লোকী কইরা বাঙালীগো বলবেন অলস (কেননা তাঁরা বাঙালী মানুষ বলতে শুধু বোঝেন উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্তরে) অথচ গলাবাজরা প্রলেতারিয়াত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান / কারখানা দিবেন না অালসেমী ভাঙতে! উইকি যা বলে তা দিয়া তাঁরা নাইন ইলেভেন ইস্যু টাইনা ইরাকরে বলবেন জঙ্গী!

অথচ জঙ্গী কিভাবে তৈয়ার হইলো তার খোঁজ নিবে না। কয়েকদিন পর তাঁরা এমবেডেড জার্নালিজমের বদৌলতে ইরানরেও জঙ্গী বলবেন সেইটা দেখনোর অপেক্ষায় আছি। মাশাল্লাহ চালায়ে যাক না তাঁরা। তাঁরা তাগোর পেছনে অনেকে আছেন যারা ক্যাটাগরিতে উচ্চবিত্ত আর প্রলেতারিয়াত+স্বাধীনচেতাদের গালাগালি করে সকালের নাস্তা খান। বাঁইচা থাকেন গলাবাজদের লগেই তাগো শ্রেণী সংগ্রাম হবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s