অ্যাডাল্ট থিংকস: সজল আহমেদ এর কবিতা সমগ্র


 

2016-07-13-17-22-26-066.jpg

মদখোর – মাগীবাজ

যাহা নিতম্ব তাহাই পাছা

মদ-মাগী আর আমি আগাছা

পল্লবের গন্ধেমাতম এক পরগাছা

মহুয়ার ডালে বসা এক শঙ্খচিল

ভালুক যোগসাজশ মহুয়ার লোভে

কবির পঙক্তি বাঁধা সুরার গেলাশে।

মাগীবাজ মানবাধিকার কর্মীরা

আসো মদ খাই আর কবিতা শ্রবণ করি

আর বেশ্যা পল্লীর বেশ্যা ঠাপাই।

অধিকারের দরকার নাই বেশ্যার

আমার

বেশ্যা শুধু দেহ বেচে সংসার চালানো কে বোঝে তাঁর অধিকার।

 

 

আহা পিথিবী!/

যখন পৃথিবীর চাইরপাশে তাকায়া অন্ধকার দেখি,

বাকরূদ্ধ হই।

পৃথিবী আমারে ভাবে মাদারচোদ,

বন্ধুরা ভাবে বেঈমান!

এই তো মানবীয় নিয়ম

এরে কাটায়ে যখন আমি লাফ দেই ছাদ থিকা,

তখন পৃথিবীর তাবৎ লোক আমারে খিস্তি দেয়

লাশে লাথি মারে- আর চিৎকার করে কানের কাছে বলে,

শালা যাবি তো জাহান্নামের পঞ্চ দুয়ারে!

 

 

গণিকা//

প্রেম এই সুরার গেলাশে আজ মিশে যেতে থাকো; চষক-গণিকা নাটুয়ার নৃত্যে,

এক ফাঁকে কামাভাব ভর করে কামাশক্ত শরীরে;

সত্ত্বার চাহিদা শুধু সেক্স!

গণিকার পুলকিত ভ্যাজিনা ছেদ করে তড়তড়িয়ে ওঠা অর্গাজম

শিৎকারে ছিড়ে ফেলা যৌনি যবনিকা

একদলা থু মেরে, পিচ্ছিল পিথিবীর অভ্যান্তরে শিশ্ন ঢুকিয়ে, করি মানব ভ্রুণের চালান।

প্রেম তড়তড়িয়ে চলে আসে দেহে

ক্ষয়িত অনুভূতি ঘর্মাক্ত গতরে।

রাতের ঘুম।

আসো হানা দাও ক্ষয়িত যুগল আঁখি পল্লবে,

মিশে যেতে থাকো শয়ন বিভোর পোট্রেয়েটে।

কি নিদারুণ পিথিবীর সুখ!

হাহ! গণিকার শিৎকার কানে বাজে, দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতায় আমি জেনে গেছি- অর্গাজম নয়, ভান করে মাগীগণ চেঁচামেচি করে!

জরায়ু বলতে গণিকার যা রয়েছে তা একদমই ছাড়ানো ফলের খোসা!

 

 

হিরোইক্যাল ইসাইড//

চলো দশতলা ছাদে উঠে ঝাপ দিয়ে মরে যাই এই সায়াহ্নে

প্লে করো স্যাডিস্ট মিউজিক, সিগারেট ধরো ঠোঁটের ফাঁকে

অাইসকিউব, অ্যামিনেম কিংবা প্লে করতে পারো আবদুল করীমের কইলজা ছেড়া বিচ্ছেদ

গান শোনো

বিড়ি টানো

গালাগালি ইচ্ছে হলে করো

যাকে ইচ্ছে গালি দিতে পারো

যা মুখে আসে তোমার

ব্লাস্ট করো চেপে রাখলে বুক ভারী হয়

কাঁদতে ইচ্ছে হলে চিৎকার দিয়ে কাঁদো।

স্যুপারম্যান কিংবা আলাদিনের উড়ন্ত দৈত্য হতে চাইলে ভাবো হয়ে গ্যাছো।

উড়াল দেও, নিউটনের সূত্রকে চুদে দিয়ে ছাদ থেকে উড়াল দাও।

তুমিই রাজা, প্রজাহীণ রাজত্বে একলা রাজা

আকাশের সব তারা, শহরের গাড়িঘোড়া আর জর বস্তু সমূহ তোমার রাজত্বের প্রজা।

যখন মরতে ইচ্ছে হয় ছাদের কিনারে যাও

নিচে তাকাও। কি দেখছো?

মৃত্যু দূত কে যদি না দ্যাখো তবে ভয় নেই ঝাপ দাও

মাটিতে পরতে পরতে কয়েক মুহূর্ত ভাবতে পারো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাবনা

ভাবো বেঁচে থেকে লাভ নেই আচোদা দুনিয়ায়

যেখানে মানুষ মানুষেরে ভাবে বালছাল

 

 

আহ্বান//

আসো বসে বসে পান করো সুরা

বিপন্ন রোডের মাঝে আমার হুজরা

আসো পান করে যাও প্রেমসুধা

আসো পান করে যাও প্রেম মোদীরা।

 

 

সেক্সপিগ//

এক আদীম উষ্ণতা জাগে এ কামের পাহাড়ে, কাম হানা দেয় শরীরে শরীরে তখন নিজেকে ভাবি এক যোগী। কাচভাঙা শিশির আর বৃষ্টিকে মনে হতে থাকে রক্তস্নান কিংবা ঋতুবতী রমনীর ঋতুস্রাব।

তাই বৃষ্টি বা শিশির আমি অপবিত্র হওয়ার ভয়ে গায়ে মাখি না।

আমি প্রেমিকার যৌনিকে ভাবি না প্রেসক্লাব যেখনে সর্বদা আসা যাওয়া হয়, আমি ফুলের গন্ধে মাতাল মৌমাছি না।

আমি এক পঁচত্বপ্রাপ্ত প্রেমিক যার পিছুটান নেই, প্রেমিকাকে ভাবে যে বালছাল। প্রেমিকার বিরহবেদনা সে এই বলে ঝাড়া দিয়ে ফেলে দ্যায় “সোজা হয়ে দাঁড়াও, জোড়ে শ্বাস নাও আর বলো, প্রেমিকা গিয়েছে তো বাল হয়েছে? ” যে যাবার সে যাবেই। আর যে যাবার সে চলে গেলে ধরে রাখবো ক্যানো? কোন বালের ঠ্যাকা পরেছে আমার?

 

 

মিল্লাতে ওয়া প্রেমিকা//

১.

সেদিন তুমি আশ্চর্য হবা যেদিন দেখবা, আমার জানাজায় আমি নিজেই দাঁড়াইয়া ইমামতি করতেছি।

আর কাতারে কাতারে লোক খাড়া হইবে আমার জানাজায়। শ্যাষ বিদায় মন শ্যাষ বিদায়। আমার জানাজায় কিছু যুবকরে দেখা যাবে ফুলহাতে সম্মান দেখাইতে আসবে কেননা মরবার আগে আমি তাগোর আইডল ছিলাম।

আমি তাগো টাইনা দাঁড় করাবো নিজের জানাজার কাতারে। ২.

“মোবাইল সেট বন্ধ রাখুন। কাতার সোজা করুন। আর শুনুন মাইত বিষয়ক মাসালা।

এই মাইত এক গর্দভ। যে দুনিয়াকে বিলায়ে দিছিলো এক নারীর পদতলে। আর সেক্রিফাইস করতে করতে অবশেষে মইরা গ্যালো গর্দভটা! সে আল্লার কোন কাজ না করে, প্রেমিকার পদলেহন করেছে। আর প্রেমিকাকে পাইতে গিয়া সে নিজেরে করছে জুলম! সে পাশের ঘরের চিকিৎসা না পাওয়া শিশুটির দিকে এক পলক ও না তাকাইয়া তাকায়ে ছিলো ফার্স্টফুড এর দোকানে। সব অর্থ ঢালছে প্রেমিকার পদতলে। বেহেশত তো তারই পাওনা যে পৃথিবীরে গুরুত্ব না দিয়া তাকায় আসমানে আল্লার পানে! কিন্তু এই মাইত সে জগৎ থিকা দূরে সইড়া ছিলো বহুদূর! ”

৩.

চাইর তকবীরে শ্যাষ হওয়ার পরে,

আমার লাশ আমি এক পায়া ধরে কবরস্থানতক নিয়া যাবো। বাঁশ ঠিকঠাক দিয়া পারায়ে মাটি চাপা দেবো আর কইবো, ও মাটি, তোমার ভিতরে রাখি আল্লার নামে, একটা গর্দভ মিল্লাতে ওয়া প্রেমিকা, মিল্লাতে ওয়া প্রেমিকা।

ও মাটি শোন! তোমার মাঝে এক গর্দভরে দিয়া গ্যালাম। এরে দুইপাশ থিকা এমন ভাবে চাপ দেও যাতে তাঁর হাড্ডিগুড্ডি, পচা গোশত সমেত মাটির লগে মিইশা তৈয়ার হয় সবুজ সারের।

আফসোস! তোমার মিল্লাতে আমার আর বেহেশত পাওয়া হবে না!

 

অউন ফ্লেশ ইটার//

ক্ষিধায় আমি যখন পিরথিবীর কোথায় ও খাওয়ার লাইগ্যা এক লোকমা বালিও পাইলাম না অবশেষে নিজেরে খাইতে শুরু করলাম।

পছন্দানুযায়ী স্থান বিশেষ গোশত কাইটা কাইটা নিয়া রৈদে ঝলসায়ে খাইতেছিলাম।

আমি নিজের রক্ত গোশত খাইতে খাইতে মুখরে বলতেছিলাম থামো!

প্রাণী দেহের সবচে মজার অংশ হইলো গিয়া তাঁর মগজ বা ঘিলু।

অতঃপর আমি আমার ঘিলু চাবাইতে থাকলাম।

ঘিলু চাবাইতে চাবাইতে বুকের বামপাশে ব্যথা অনুভব করলাম। শাউয়ার হার্ট! হার্টটা যদি না থাকে তাইলে ক্যামন হয়?

এমনিতেই প্রেমিকার দাপটে হার্টের অর্ধেক খাইয়া ফ্যালছিলো নিকোটিন।

বাম হাত পাজরে ঢুকায়া ডানহাত দিয়া বুকটা ফাঁক কইরা শাউয়ার হার্টটা চাবাইতে লাগলাম বিচ্ছিরি গন্ধে হার্টটা ছিলো পরিপূর্ণ! হার্টটা আমি খাইলাম আয়োডিন যুক্ত লবন দিয়া আর আকাশে দেখতাছিলাম শকুনের দল আমার দেহাবশেষ খাইতে আসছে।

শকুনের লগে পাল্লা দিয়া আমি নিজেই নিজের দেহ পা হইতে খাওয়া শুরু করলাম। খাইতে খাইতে মুখ ও খাইলাম। একগাছা চুল ও অবশিষ্ট ছিলো না।

অবশিষ্ট বলতে ছিলো খালি আমার রূহ। আমার অবশিষ্ট রূহরে সিজ্জিন খায়া ফালাইলো।

 

 

 

 

 

 

 

 

Advertisements

2 thoughts on “অ্যাডাল্ট থিংকস: সজল আহমেদ এর কবিতা সমগ্র”

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s