রিভেঞ্জ


।।এক।।

দুঃখ পেলে সবাই 

কাঁদতে জানে না

কারো কারো

হৃদয় ভেঙে যায় 

কাচের টুকরার মত

অথচ চোখে 

জল গড়ায় না!

যারা কাঁদতে জানে না

তাদের দুঃখটা

 কত গভীর 

একমাত্র পরমেরই জানা!

আমি এতটুকু দেহে

এত কম বয়োসে

এত অপমান

এত বিরহ

এত অসম্মান,

ক্যামন করে সহ্য করেছি

ভেবে নিজেকে নিজেই

সেলুট করে 

বলি “বস মারহাবা” !

তবে হ্যাঁ, তোমার

সকল দুর্ব্যবহারে

হৃদয় ভাঙে আর

 চোখ ভারী করে!

অপমান, অবজ্ঞা, অানাদর

 আর বিরক্তিবোধ

  থলিতে জমা হতে থাকে।

চোখ বারেবার ইশারায়

বলে দ্যায়, আর কত

অবহেলা, তকলিফ

বাকি রয়েছে?

 

।।দুই।।

ইনশাল্লা

একদিন ফিরিয়ে দেবো

 সব জমিত অপমান!

তুমি শুধু তাকিয়েই থাকবে

 যেরকম আমি 

তোমার দিকে

তাকিয়ে থাকতাম।

মুখের ওপর সব

 “না” বলে দেওয়া,

হাত ধরতে না দেয়া

পাশে বসতে না দেয়া

আমাকে বারবার খোটা দেয়া

আমাকে বোকা ভাবা

প্রতিটা গালি

একেক করে

আশ্লেষে আমাকে 

ধ্বংশ করে দেয়া!

টিস্যুতে হাত, নাক মুছে

 মুখে ছুড়ে দিয়ে 

সবকিছুর শোধ নেবো 

ইনশাল্লা একদিন!

তোমার মুখে কোন 

কথা সড়বে না

কারণ নিজেই খাল কেটে 

তুমি কুমির এনেছিলে!

ভাবতেও তোমার কষ্ট হবে যে,

“আমি এতটা খারাপ হতে পারি!”

 

।।তিন।।

ইনশাল্লা

তুমি মরে ভূত হলে,

তোমার মৃতদেহতে

লাথিও দেবো না

আমার দামী জুতো

ফকিরনি একদম 

সহ্য করে না!

 জানাজা তো দূরে থাক

 আমি তোমার লাশটা কে

দূর হতে 

 দেখতেও যাবো না!

খাটিয়ায় তুমি

অপমানবোধ

 হতে থাকবে।

এমন ভান করে থাকবো

যেন তোমাকে আর

চিনি না আমি।

কোন কালেই

আমরা পরিচিত 

ছিলাম না যেন।

আমার ঘৃণা হবে ছিঃ!

পূর্বের সব বিরহ

মনে পরে যাবে;

কবরে একদলা

 থুও ফেলবো না।

জানো তো

আমি যেখানে-সেখানে

থুঃ ফেলি না।

সুযোগ পেলে

তোমার নাপাক খাটিয়ায়

আগুন জ্বালিয়ে দেবো!

 

।।চার।।

ইনশাল্লা 

তুমি মরে যাওয়ার

 একদশক পর একদিন

কবরে বড় ঘাস গজাবে, 

তোমার কবরের

 যত্ন নিচ্ছে না যেন কেউ,

নিশ্চিহ্ন প্রায় 

কবরের উঁচু প্রস্তর। 

মরিচাধরা সাইনবোর্ডে শুধু

তোমার অস্পষ্ট

 নাম সাদা 

রঙে লেখা।

আমাকে তুমি 

আসতে দেখবে

তোমাকে আমি 

দেখবো না।

হয়তো ভাববে 

তোমার কবর 

জিয়ারতে এসেছি।

তুমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে

হয়তোবা ভাববে আমার 

দোআয় তোমার শাস্তি

কিঞ্চিত লঘু হতে পারে।

অামি হাসবো রহস্যের হাসি

তোমার কবরের মাটি 

ভেঙে যেতে দেখে।

আমি কবরের পাশে দাঁড়াবো

জিয়ারতের ভান করে

জিপারটা আস্তে টেনে খুলে

কবরের পাশে ঘুরে ঘুরে

কবরের গায়ে লেপ্টে আসবো

 গৎবাঁধা শ্লেষ।

 

।।পাঁচ।।

তুমি দেখবে 

অথচ কিচ্ছুটি

 বলার শক্তি

 নেই তোমার!

দুনিয়াতে তোমার কথা 

কেউ শোনে না 

এখন আর।

এমনকি তোমার 

কবরের ফেরেশতারা ও না!

মনে রেখো, আমাকে

 ইগনোর করেছো বলে

 কবরেও তোমার শান্তিতে

 থাকা হবে না! 

হা হা হা!

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s