লিটল লিটল পোয়েট: পাণ্ডুলিপি+পিডিএফ


লিটল-লিটল পোয়েট

 

-সজল আহমেদ

[লিটল লিটল পোয়েট পিডিএফ ডাউনলোড: সাইজ 2.5mb]

জন্ম/

তিনি বসে আছেন অস্পৃশ্য কৈলাশে

জন্মায়নি কেউ জন্মায়নি, আল্লার ঔরষে!

কালা/

আনরিকয়েস্টেড, আমি একটা কালা পাথড়।

ধরো আমার নোংরাই গতর।

আমি ধরো হাজরে আসওয়াদ;

যদি তোমার দরকার পরে বস্তাভরা সোয়াব।

যদি তুমি ঈমানদার হও

মক্কায় তবে আমারে চুমা খাইতে যাও।

ভাইবোনা আমি তোমার মতোন আনাড়ি,

কারণ আমি কুৎসিত হইলেও বেহেশততে বাড়ি।

 

 

স্তন/

আমি জানি এই খান জাহানের

ষাইট খান স্তম্ভের প্রহেলিকা,

কেমন কইরা নকশা হইলো ইহা!

কেমন কইরা ডিজাইন করলেন রাজমিস্ত্রি সাব,

নারীর উরোজ নকল কইরা সোয়াবে ঢাকলো পাপ!

 

পরাধীন/

আমি যদি বলি আমি জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে রবী ঠাকুর কে গাইব না।

রবীর ভাষায় লিখবো না পড়ব না

কিম্বা তোমাদের মিথ্যে ইতিহাস মানব না!

আমাকে তাহলে বলা হবে দেশদ্রোহী;

কারণ চিরকাল যাঁর আত্মা বিদ্রোহী,

তাদের রক্ত চুষে খেয়েছিলো সরকারী জোঁক!

আমাকে তোমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক বলো না,

আমার চারপাশে সরকারের পোষা হায়েনাদের পিটপিটে চোখ।

এখানে আমার বাকস্বাধীনতা নেই;

শোনার অধিকার নেই।

এমনকি,

সত্ত্বা ও চালাতে চায় মহামতি সরকার সাহেব!

 

বেওয়ারিশ লাশ/

একটি লাশের বিশটি নখ নেই।

একটি চোখ নেই।

একটি বেওয়ারিশ লাশ

রাস্তায় পরে আছে

দুয়েকটি কাক কা কা করে ঘুরছে আশপাশ।

কারো কোন খোঁজ নেই!

সম্ভবত,

ছেলেটি পলিটিকস করতো।

এবং বিরোধী দলের।

ছেলেটির হৃৎপিণ্ড বরাবর গুলি।

এবং গুলিটি পাঁকা হাতের।

এবং

একটি চোখ নেই।

সম্ভবত ফেলে যাবার পর

কাকে খেয়েছে।

আর

ছেলেটির বিশটি নখ নেই!

এবং লাশটির

খোঁজ নেবার

কেউ নেই।

কেন নেই?

কারণ

ছেলেটি

বিরোধী

দলের কেউ!

 

সিগারেট/

মিডনাইট

একটি সিগারেট,

ফুকতে ফুকতে

ভুলে থাকা যায় যে

আমি সত্যিই

একটা গবেট!

 

মৃত্যু/

অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে

আমার নিঃশ্বাস

একদিন দেহের প্রতি

হারাবে তার

দীর্ঘ প্রথিত বিশ্বাস!

আমার হৃৎপিণ্ড

কার্য থামাবে

আর ধমনী শীরা

অসচল হবে।

আমার মস্তিষ্ক

থামিয়ে দিবে

তার চিন্তা করা

আমার দেহ

নিথর হয়ে যাবে!

 

 

 

প্রেম/

কোটি

অপমান

অবজ্ঞার

পর ও

তোমার

নাম ধরে

ডাকাটা

আমার

জন্য তৃপ্তির!

আসো বলতে

থাকি কথা

যত বিরহ গাঁথা

রিমেম্বারিং করতে করতে

একে অপরকে জড়িয়ে কাঁদি!

 

 

 

 

 

আরেকবার যদি বিপ্লব বলি/

আরেকবার যদি বিপ্লব বলি

আরেকবার যদি ভাইয়ের রক্তের হিসাব চাই,

রাষ্ট্র আমাকে খেয়ে ফেলবে!

তুমি কি করবে প্রিয়তমা?

আমাদের চারপাশে তাকিয়ে দেখো

উঠে দাঁড়াবার শক্ত কোন খুটি নাই!

অতএব আসো ঘরে লেদিয়ে চুপ করে থাকি

যা আছে বিপ্লবের বাকি

তা আমার শুক্রানুজাত সন্তান করবে।

প্রিয়তমা আরেকবার যদি বিপ্লব বলি,

রাষ্ট্র আমাকে খেয়ে ফেলবে!

তুমি কি করবে প্রিয়তমা?

হয়তো তাকিয়ে পুলিশের গুলি দেখবে

আমার লাশটার দিকে তাকিয়ে কাঁদবে।

 

ক্ষুধা/

গোগ্রাসে আমি খাইতে লইলাম

পৃথিবীর সব আহার্য্য।

আমার অনেক ক্ষিধা

আমি চাবায়ে খাইতে পারি

গ্যালাক্সির সকল তারা!

 

 

এনিমি/

এনিমি তোরে যে কথা বলার চান্স দিছিলাম

ঐটাই আমার সর্বোচ্চ ভুল!

এখন আফসোস আমারে ছিড়ে

আমি ছিড়ি অাফসোসে চুল!

এনিমি

আমি জানি

কুত্তার বাচ্চা!

ক্ষণিকের বাচ্চা!

মাডাফা!

আমি তাকায়

দেখতে থাকি তা

তোর আম্মারে লাগায়

একটানা তিনশ বিদাশী কুত্তা!

এনিমি

তোরে মাইরা

ভোতা কইরা

দেবার আগ পর্যন্ত

কুত্তার বাচ্চার মতো,

তাকায়া তাকায়া

দেখতে থাক পৃথিবীর হালচাল

আর শুকতে থাক হুগার্পুলা

আমার আনশেভড বাল!

 

 

মদখোড়/

হু হা হু হা! হাটিতেছি দীর্ঘপথ

রাইতের চাঁদ আর পিচঢালা রাস্তা

উভয়ই মনে হইতাছে হা হা হা!

ব্রথেলসের মাগীর বিছানা।

 

আমি রাস্তার পাশ ধইরা শুইয়া পরার পর;

ফীল করি আমার শীরদারা ধরে বয়ে যাচ্ছে উষ্ণ কারো ছোঁয়া, তাকাই অগত্যা-

তাকায়ে দেখি শুইয়া পাশে এইটা হুমন্দির বাচ্চা

একটা ৩ দিনের অনাহার ওরাংওটাং টাইপ নেড়ীকুত্তা!

 

আমি রাগে রণবীর উইঠা দাঁড়াইলাম

হুগারপুর হুগা বরাবর এক লাথি কষাইলাম!

দেখি কেইকেই কইরা চুদনার পুলা হোগা উপ্তা কইরা দৌড়ায়

দৈাড়াই গিয়া দাঁড়াইলো এক প্রফেসরের দরজায়।

 

প্রফেসর কুত্তা হুগা মারেনি?

ভাবতে ভাবতে ফালতু মাথায়

একাই মিছিল ধরি একাই যাই…

নীরিহ প্রাণী কুত্তা হুগা মারার দায়ে

প্রফেসর সাবের ফাঁসি চাই! ফাঁসি চাই!

 

প্রফেসর না বাইর হয় না সে সাড়া দেয়!

হালার আবার খুব ইজ্জতের ভয়!

আমি হাসি! হা হা কুত্তা হোগা মারা প্রফেসররা এমন ইগো চোদনবাজই হয়!

 

হাইটা আসতে আসতে আবার আকাশে দিকে চাই

আকাশের চাঁদ আর এই দীর্ঘরাত লগে পিচঢালা এই রাস্তা

সব! সবই আমার কাছে কেন যেন

মনেহয় – ফীল ও করি ক্ষাণকি বাড়ির মাগীর বিছানা!

 

 

চাওয়া/

হে পৃথিবীর প্রতিপালক শোনো!

তোমার সন্নিকটে আমার চাওয়ার অনেক নেই। তবে কিছু একটা আছে।

আমি চাইছি তোমার কাছে-

না দিলে জোড় করে নেবো!

প্রভূ!

“আমাদের প্রণয় ঘটিয়ে দাও

আজ! এক্ষুণি! একটু ও দেরী নয়! এক্ষুণি দিবে,

এক্ষুণি দিতে হবে! এক্ষণ চাই! এক্ষণ! এই মূহুর্তে চাই! দাও প্লিজ!’

আর যদি না দিতে পারো;

তবে বলে দিতে পারো “তুমি দাওনা কাউরে কিছু, আশা দিয়ে রাখো, বিশেষ করে আমারে!”

 

 

অভিশাপ দেই না/

যদি আকাশের দিকে তাকিয়ে একবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি তবে

তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে, ছারখার হয়ে যাবে, পুড়ে যাবে, গলে যাবে!

যদি আকাশের দিকে তাকিয়ে একবার বলে দিই ;

অভিযোগ করি, আমার সমস্ত বেদনা!

তবে তুমি গজবে নিপতিত হবা!

আমি তোমার ডেস্ট্রয়ার চাইনা

কারণ আমি তোমার মতো ছোটলোক না।

আমার বিশালতা তোমার চে;

কোটিকোটি গুণ উপরে!

 

 

শূণ্য/

আমার যত পূণ্য

তোমার পায়ে লুটাতে

এসে মনেহয়

যা কামাই করেছি

তা অতি নগণ্য!

আমি থাকি সর্বদা

কালো মেঘে আচ্ছন্ন!

হে প্রিয়!

তোমাকে ছুঁতে এসে

আমার জীবন

হতে চলেছে বিপন্ন।

আমি নগদে যা পেয়েছি

ভবিতব্য যা পাবো

হাত দিয়ে দেখি

আমার থলিতে রয়েছে

সব শূণ্য আর শূণ্য!

 

 

কসম/

আজ এই মৈতের দিনের কসম

শুনে রাখ হে নরাধম!

পাতা-বৃক্ষের কসম

কসম এই ছোড়ার

যার আঘাত আমার

হৃদয়ে হেনেছিস

কসম সেই বিষের

যা প্রয়োগে আমাকে

মেরে ফেলেছিস

কসম আমার মৃত্যুর

আজরাঈলের কসম!

আমাকে যেভাবে

মেরে ফেলেছিস

কবর থেকে বের হয়ে

ঠিক অইভাবে তোকে মেরে ফেলবো!

 

 

ব্যক্তিত্ব/

তোমার চুমুর কাছে আমার সব ব্যক্তিত্ব মাটি হয়ে যায়!

আমি নির্লজ্জ হয়ে যাই।

তোমার পায়ে চুমু খাই,

তোমার পায়ের কাছে আমার সব ব্যক্তিত্ব মাটি হয়ে যায়!

কামের ঘোরে ব্যক্তিত্ব টিকে না কোন শালার ও! প্রিয়!

 

কসম-২/

সেই গোলাপ ফুলটি ও তার কাঁটাগুলোর কসম

যেটা আমি তোমাকে দিয়েছিলাম মৃত আত্মা!

যদি আমি পূর্বের প্রতিশোধ না নিতে পারি তবে বুঝে নিও আমার কুকুরের সত্বা!

 

 

বিরহ/

মনে পরলে বিরহ

কমে যায় আগ্রহ

নিতম্ব নাচায়ে তখন

নিজের পাছা নিজে মারি!

ওহে মনের প্রহরী!

আজ তোমারে নিবেদন করি;

যদি মনে পরে যায় বিরহ-বেদনা

স্মৃতিপট সব উল্টে দিও করি বন্দনা

এ ভিষন এ আজব অকথ্য যন্ত্রণা!

 

 

বুলবুলি/

হাবীবি তাকিয়ে দেখো ফুটেছে কদমফুল

আর তার ডালে বসা একটি বুলবুল

হোগা লাল কি আজব এর মতো পাখি,

আমি অন্যকোথাও আর দেখিনি!

 

 

আরেকটি বিপ্লব/

কমরেড! সামনে একটি আসন্ন বিপ্লব!

আমাদের সামনে দণ্ডায়মান ফ্যাসিবাদ!

যদি বিপ্লবের কবিতা শুনতে শুনতে পরে যায় ফজরের আজান

যদি পাখি শুরু করে গান,

তবে কবিতার ডায়েরী রেখে চলো নামাজটা শেষ করে মসজিদ থেকে

একটা মিছিল বের করে চলো বঙ্গভবনে। যাই;

সরকার হটাই আর নিজেদের অধিকারের কথা বলি!

বাঁচতে হলে বিপ্লব চাই! বিপ্লব চাই!

 

 

গালি/

বাইঞ্চোৎ!

আমার বন্ধুর গায়ে হাত দিবি তো,

আখেরাতেও তোর আম্মারেে গালি দিমু!

তোর আব্বার সব পূণ্যে সে বেহেশতে যাইতে রেডি হবে;

আমি তখন তাঁরে থামায়ে দিয়ে বলবো-

এই একটা নটী! জন্ম দিয়েছে এক ব্যাটা!

ক্ষাণকির পোলায় একটা পাঠা!

ঐ সন্তানটাই আছিলো তাঁর জারজ পোলা!

এরে বেহেশতে যাইতে দিলে লাইসেন্স দিন, বেহেশতে যাবে সব বেশ্যা!

 

 

কেয়ামতে তোমার অবস্থা/

যেদিন প্রতিটা মেঘ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে

কসম সমূহ মাটি হয়ে যাবে

আর আকাশে উঠবে না কোন চাঁদ

পৃথিবী উড়তে থাকবে তুলার বরাত

সেদিন তুমি কাউকে পাশে পাবে না;

থাকবে না কোন কফিশপ!

কোথায় যাবা সেদিন কোন আড়ালে?

কোন চায়নিজে গিয়ে মাথা লুকাবে?

কার সাথে তুমি সেদিন বাইকে ঘুরবে?

ছিড়বে নিজের চুল পূর্ণ আফসোসে।

কারণ,

আমার সাথে করা প্রতিটা প্রতারণা তোমাকে সেদিন খুব পীড়া দেবে!

পৃথিবীর সাথে সাথে তুমিও কাফের রূপে মারা যাবে।

 

 

 

 

বেওয়ারিশ/

আমি মরে গেছি সেই কবে!

আমার দাফন বা জানাজা কিছুই হয়নি

শুধু কিছু কাক কে দেখেছি

গায়ের উপর পরে “কা কা” দোআ দুরুদ পড়ে

নাকের পাশে প্রথম ঠোকরটা বসিয়েছিলো। এরপর আর মনে নাই।

মৃত্যুর পর সম্ভবত ভুলে যাওয়ার রোগটা প্রবল হয়।

মৃত্যুর আগে আমি কত জানাজা পড়ালাম; কত দাফন করলাম,

আর আমার জানাজা হলো না।

গলিত দেহটি হসপিটালের পেছনের দিকে কে যেন পুঁতে রেখে গেছিলো

পাশাপাশি ২৬ টি কবর।

প্রতিবেশীদের দরজা ধাক্কালাম কত এক শালার ও সাড়া নেই!

কানা লাশ শালারা কোন মৌজে আছে কে জানে!

আমি আমার মোবাইলটা বের করে আজকের আপডেটটা দেখতে স্ক্রীণে চোখ বুলাতে দেখি

বৌয়ের মেসেজ, “হ্যালো কই তুমি? ফিরে আসলে নিয়ে এসো এক কেজি গাজর, আধাকেজি শসা, টমেটো সস আর এককেজি গরুর মাংস।”

আমি রেগেমেগে রিপ্লাই দিলাম “মাগী তুই ভালো হয়ে যা! কত জ্বালিয়েছিস আমায়! এখন আমি কবরে আছি তোর বাজার আনবে কোন বাবায়?”

মেসেজটি আর সেন্ড হয়নি। নেটওয়ার্কের বেশ প্রবলেম এখানে!

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কুর্সড——> /

অ্যামিনেম!

আমার ধোন

তুমি গিলতে থাকো

আমার চামচা।

মাডাফা! মাডাফা!

তোমার আম্মারে লাগায়;

তিন হাজার জাপানি কুত্তা!

একদিন কোন একদিন

হয়তোবা কবরে একদিন

জিন্দা হবে আমার ধোন

আর অটোগ্রাফ নিতে তুমি

দৌড়াবা কবরের এ-কোণ ও-কোণ।

অ্যামিনেম! অ্যামিনেম!

পুরানা কুত্তা

পুরানা কফিশপ

পুরানা বন্ধু

পুরানা হিপহপ

বাজায়ে বাজায়ে

লিরিকাল গুণ্ডামি

চালায়ে চালায়ে

তুমি রাজা

খাইতে খাইতে গাঁজা

আজ এ রাজাত্বে আছো।

কই থাকো?

কই বাড়ি

কোন খানে খানা খাও?

কোন টয়লেটে হাগো

কই থিকা কই যাও?

কোনখানে ধোনিলাও

কার লগে রাত কাটাও

কোন বাস স্টপেজ এ থামে তোমার গাড়ি

কোন বস্তিতে অ্যামিনেম তোমার বাড়ি

সব জানি আমি! চিনি তোমার চৌদ্দগোষ্টির নাড়িভুঁড়ি!

তুই আনাড়ির আনাড়ি

শয়তানের নাড়িভুঁড়ি!

 

 

পৃথিবী/

পৃথিবী একটা আবছা আলোর ভুল বুঝাবুঝির,

পৃথিবী একটা পিংক কালারের শাড়ির,

এবং বসতস্থল কিছু আবোগদা আনাড়ির!

পৃথিবী একটা স্কুল পালানো ছাত্রের বিড়িটানা

পৃথিবী একটা চুৎমারাণীর আচোদা ছলনা!

পৃথিবী একটা মদের বোতলে ১ ছিপি মদ

পৃথিবী একটা ভাড়া বাড়ির ৩ তলা ছাদ

একটা বিশাল খোলা আসমানে পূর্ণিমার বড় চাঁদ।

পৃথিবী একটি বেকার যুবকের কেচে না দেয়া ঘর্মাক্ত জামা,

পৃথিবী একটা সুন্দরী যুবতীর লাল কালারের পায়জামা!

পৃথিবী একটা মন্ত্রীর খুনের গোপন আস্তানা

পৃথিবী একটি ষোরশির মাসিকের ত্যানা।

পৃথিবী একটা বুর্জোয়ার দুনিয়াভি বেহেশতখানা

পৃথিবী একটা প্রলেতারিয়াতের অন্ন-নোঙরখানা।

পৃথিবী একটা চাহিদার ঘর

পৃথিবী একটা বাড়িঘর ভেঙে দেয়া আচমকা ঝড়।

পৃথিবী কাঁদে রোজ অনেক কাঁদা

পৃথিবীর পথে পথে মৃত্যুর ট্রাপ পাতা

পৃথিবী রোজ হাসে অনেক হাসা

পৃথিবী একটি কালো কৌতুক আর বানের জলে ভাসা।

পৃথিবী একটা সবুজ আবরণে রুকাইয়া রুখসানা।

পৃথিবী একটা ভূগোলবীদের ভূ-বিদ্যার কারসাজি

পৃথিবী এক জুয়ারী গোফীর, বৌ খোয়ানের বাজি!

পৃথিবী একটা আয়নাবাজের ছলছাতুরির চাল

পৃথিবী একটা মর্ষকামীর দাহ্য-দ্রোহী সমকাল।

পৃথিবী একটা পকেট মারের বাম হাতের চাতুরি;

পৃথিবী একটা প্যাকেটে প্যাচানো একপাতা মায়াবড়ি।

পৃথিবী একটা প্রেমিকার দেখা বড় বড় সব স্বপ্ন

পৃথিবী একটা কন্ডমে প্যাচানো পুরুষের দৃঢ় শিশ্ন!

পৃথিবী একটা গুন্ডা পিপুলের গৎবাঁধা ভন্ডামি

পৃথিবী একটা হিরুন্সির দিনভর মাতলামি!

পৃথিবী একটা পরমাণু বোমা দূর্বল রাষ্ট্র গ্রাস,

পৃথিবী মানে অহেতুক অযথা আম্রিকার বোমা ত্রাস!

পৃথিবী একজোড়া কাপলের রাতে মধুর স্বপ্ন বোনা

পৃথিবী মানে পোয়াতি নারীর গর্ভপাতের দিন গোণা।

পৃথিবী একটা বলিষ্ঠ হাতে শিশ্ন চেপে ধরা

মাস্টারবেট শেষে স্পার্ম, চেপে চেপে বের করা ।

পৃথিবী মানে একটি ছেলের সংসারের ভার নেয়া

পৃথিবী মানে টোকাই ছেলেটির থালা ভরা ভাত না পাওয়া।

পৃথিবী মানে প্রেমিকা হারানোর অব্যক্ত যন্ত্রণা

পৃথিবী মানে গার্মেন্টস কর্মী নিগার সুলতানা।

পৃথিবী মানে খুঁজে না পাওয়া সমস্ত ঘটনা

পৃথিবী হলো রঙ্গমঞ্চ বেশ্যার জীবাণুযুক্ত ভ্যাজাইনা!

 

 

পৃথিবীসম ভারী!/

কিছু কিছু কফিন ভারী হয়ে যায় পৃথিবীর সমান!

বাপের কান্ধে পোলার কফিন তন্মধ্যে একটা!

 

চিন্তা/

মৃত্যুর পরে আর ভাবাভাবির টাইম কই?

মৃত্যুর আগে ভাবো, “মরাটা উচিৎ হবে কিনা?”

যদি উচিৎ হয়, তাইলে মরে যাও।

 

 

 

পাখির সাথে অমিল/

পাখি খায়, গোসল করে এমনকি সঙ্গম ও করে।

আমরাও এরোপ্লেনে উড়ি, পাখিও ডানায়।

পাখির সাথে আমাদের অমিল হলো,

পাখি ডিম পারে পুটু দিয়া

আর আমরা পারি মুখের কথায়!

 

 

নাম/

জানি তোমার একটি নাম আছে

তোমার বাবা খুব যত্ন করে,

৩ ছাগলের আকীকা দিয়ে

সে নামটিরে রেখেছে।

তোমার নাম ধরো আঞ্জুমান জেসমিন

আর ধরো ডাকে সবাই স্নিগ্ধা আফরিন।

আমার দুটো নামের একটি নাম ও পছন্দ না!

এখন বলে দাও আমি কী করব বা করব না?

তোমার ক্ষ্যাত নাম আমার পছন্দ না

আমি কি ৩ ছাগলের আকীকা দিয়ে পালন করবো তোমার বাপের দ্বায়িত্বটা?

তোমার নাম হওয়া উচিৎ ছিলো ব্রিটিনি স্প্রেয়ার্স,

কিংবা এমা ওয়াটসন অথবা জেনিফার লোপেজ।

এর একটাও না হয়ে তোমার নাম হলো আঞ্জুমান,

তোমার সাথে নামটা কি বেমানান!

আসো আকীকা করব তোমার বাপের মতো

আর নাম দেবো উন্নত।

আশাকরি, নাম দেবার পরই তুমি উন্নত বিশ্বের সাথে গা ভাসিয়ে ভাসতে পারবা!

 

চলো ঘুমিয়ে পরি/

মেহমুদা

আসো

আজ

আমরা

তাড়াতাড়ি

শুয়ে

গেলেই

তাড়াতাড়ি

ভোর

হয়ে

যাবে।

পিথিবীকে আজ মানুষ শূণ্য করতে গিয়ে দেখি তোমার স্তন এখনই পূর্ণ দুগ্ধে!

মনেহলো ভবিতব্য শাবকটি আমাদের পাশেই কাঁদে,

কি এক আজব কান্না ওরা কাঁদতে জানে মেহমুদা যা চরম সীমারকেও হোসেন করে দেয়!

আমার আর উচিৎ হবে কি পাঁচ টাকার প্যানথারে জাতের অস্তিত্বকে অপচয় করা?

মেহমুদা

আসো

আজ

আমরা

তাড়াতাড়ি

শুয়ে

গেলেই

তাড়াতাড়ি

ভোর

হয়ে

যাবে।

শত্রুর ভালো কথাও যুদ্ধ জয়ের একটি চেষ্টা মাত্র মেহমুদা তুমি জানো।

যারা আমাদের বলে, “১টি হলে ভালো হয় ২টির অধিক ৩টি নয়, বাল্য বিবাহ ভালো নয়!” ওরাই একদিন বলেছিলো “২টি হলে ভালো হয়, ৩টির অধিক ৪টি নয়, বাল্য বিবাহ ভালো নয়!”

বাসটার্ডস!

মেহমুদা তুমি জানো? যারা এই ভজন ছড়িয়েছে ওদের প্রত্যেকে ছয়-ছয় ভাই! আর চাইল্ড পর্ণ তৈরী হয়েছিলো ওদের গোপন ঘরে হিডেন ক্যামেরায়!

মেহমুদা! আমরা এই প্রতারকদের কোন কথাই গায়ে মাখবো না।

মেহমুদা

আসো

আজ

আমরা

তাড়াতাড়ি

শুয়ে

গেলেই

তাড়াতাড়ি

ভোর

হয়ে

যাবে।

আমাদের দ্বিতীয় বাচ্চাটির কথা ভাবা উচিৎ যিনি অনাগত…..

যার জন্য তোমার স্তনে এসেছে শাল দুধ। তাঁর ক্ষুধা পেলে মুখে ভরে দেবে উদগ্র দুধের বোটা। নিপল চুষতে-চুষতে বাচ্চাটি

মেহমুদা একদিন বড় হয়ে যাবে। ও আমেরিকা যাবে। ইউনিসেফের আওতায় ফিরে আসবে এই বাঙলায়। আমরা সেদিনই “১টি হলে ভালো হয় ২টির অধিক ৩টি নয়, বাল্য বিবাহ ভালো নয়!” মেনে নেবো। অন্যথায় আমাদের বাচ্চার চাকরীটা থাকবে না!

মেহমুদা

চলো ঘুমিয়ে পরি……

আমরা ঘুমুলে

তাড়াতাড়ি

ভোর হয়ে যাবে।

না ঘুমুলে ভোর হতে

ঢের ঢের দেরী হয়ে যাবে!

 

রূপা/

।।এক।।

রূপা! এক শতাব্দি পরে মনে করো আমাদের দেখা হয়ে গ্যালো ধরো, পায়রার পারে।

সূর্যটা তখন ডুবছিলো

রক্তিম ছায়া ছিলো

জলের অতলে যাচ্ছিলো

সূর্য, কিয়ৎক্ষণ পৃথিবীর তরে

তাঁর সব মায়া ছেড়ে।

আমি তখন বেঁচেছিলাম একমাত্র

তোমাকে শেষ দেখা দেখতে,

তুমি ও তাই।

আমি পাখি হয়ে গ্যাছি।

তুমি ও পাখি।

 

।।দুই।।

মনেকর, তুমি আমাকে দেখে উচ্ছাসিত হয়েছিলে!

আমাদের এখানে কোলাহল ছিলো, মুগ্ধতা ছিলো, দুজনার দু-চোখে তাকিয়ে আমাদের আবেগের জল গড়িয়ে ছিলো পায়রার পারেরে!

।।তিন।।

মেঘ তার উন্মুক্ত ডানায় ভর করে এসেছিলো সাদাকাশ ঘাসফুলেদের এ প্রান্তরে।

রূপা, আমরা লাজুক ছিলাম, আমাদের পবিত্র প্রেমের সাক্ষী স্বরূপ সলিলে কাটছিলো সাঁতার সাদা একজোড়া রাজহাঁস।

।।চার।।

রূপা! কী জলে ভেজালে সেই মাঠের সবুজঘাসে আজো একমাত্র তোমারে খুঁজি!

কী আনন্দের অশ্রু আমাদের গড়ায়

চোখ ছানাবড়া হয়;

উন্মুক্ত পৃথিবীর বুকে আমরা খুঁজছি একটি প্রিয় স্থান, যেখানে এই শেষ বয়োসে আরো একশতাব্দি ধরে বাঁচবো আমরা!

।।পাঁচ।।

রূপা চলো পাহাড়ের ঐ খাড়া পাহাড়ের চূড়ায়, যেখানে মেঘের খেলা দেখা যায়।

উন্মুক্ত আকাশে প্রার্থনা করবো আরো একগুচ্ছ নতুন দিনের;

রাত জাগরণ শিহরণ জাগাবে দুটো চাঁদ এক পৃথিবীর

রূপা তুমিও হাসবে।

আমি ও।

আমরা হাসবো।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

।।ছয়।।

অরুণাভ ভোরের সূর্যের মতো মিশে যাও লোমকূপে জমিত ঘাম হয়ে বেরিয়ে এসে;

অনুভূতি চুষে নাও

আমরা একটি বাসাতে দুটোপাখি কোলাহল করে একসময় ঘুমিয়ে পরি, দীর্ঘপথ পারি দেবার অকলঙ্কিত প্রয়াস মাত্র।

পর্দা খোলো, আর ডেকে বুকে লও তৃষ্ণার্ত এ কায়া।

ভাজখোলা চিঠি।

স্বরবর্ণে অঙ্কিত।

গোটাগোটা অক্ষর।

অযত্নে ফেলে না রেখে ;

চিঠির জবাব লিখে পাঠাও

দক্ষিণের ও বাতাসে।

 

 

 

 

 

।।সাত।।

রূপা সামনে পায়রার ঢেউ,

বাতাসে বাতাসে ভেসে চলো গোসল করি।

অর্ধমেলনি দৃষ্টি প্রসারিত করে তাকাও

আর ঠান্ডা বাতাসরে বলো ক্ষীণ সুরে গান গাইতে।

চোখ বুজে দ্যাখো চোখের সামনে দেখতে পাবা আমারে,

আমি সবুজ ঘাসের সাথে কথা কই।

একটানা জপ করি তোমারে

তুমি ফিরে এসো পায়রার পারেরে…..

 

 

 

রূপা-২/

১.

তাকাও নিম্নগামী দৃষ্টিতে; দৈবাৎ ঝড় হয়ে এসে আবার হারিয়ে যাও হে টর্পেডো!

খুব ভোরবেলা কুয়াশাকে চিড়ে,

বাথটাবে নগ্ন গোসলের আস্বাদন

কিংবা ছায়া সমেত ডুব দাও পানা পুকুরে।

পুকুরের জলে হারিয়ে গেলে আর খুঁজে পাওয়া যায় না হে জলজ!

তোমাকে খুঁজে পাওয়া নয় অত সহজ!

নগ্ন শরীরে মাছ, পাখনা গজায়,

কৃত্রিম ফুলকায় ; শ্বাস নিতে নিতে হয়ে যাও সমুদ্রিক মাছ হে মৎসকন্যা!

জীবিত হও কিম্বা মৃত, তদুপরি তুমি খুব ছল জানো হে ছলনাময়ী অনন্যা!

ছলনায়ই রও আবৃত!

ছলনার ছলে কখন নিজেই হয়ে যাও শিকার আতঙ্কে জড়ো হই!

শিকারী মাছ থেকে সাবধান!

মাছ হও আর আমার সমুদ্দুরে খোঁজো নিজের পরমায়ু

হে মহিরূহ দোলা দেয়া নির্মল বায়ু

আজকে তোমারে প্রার্থনা,

উত্তর হইতে দক্ষিণে যাও,

নিয়ে আসো তাঁর শরীরের ঘ্রাণ –

যাপিত ইবাদত আমি যার তরে করি।

জানো তো! যারে ভালো লাগে তাঁর সর্বপাপ যেন পূণ্য মনেহয়

তাঁর শরীরের ঘ্রাণ স্পৃহা জাগায়।

 

 

২.

সুদৃশ্য-সমুদ্রে বাস করা শুশুকের অভিজ্ঞতায়, সমুদ্র এক অকালপ্রয়াসী! অকলঙ্কিত নায়ের তলায় ও লেপটে দিতে পারে কলঙ্কিত ঢেউ!

তুমি খুব বেশি ছলনার ছলে ক্রমে ক্রমে এঁকে দিয়ে যাও ছলনার ছাপ!

আমি জানি তুমি এমনই করবে। মানুষ জন্ম নেয় ক্রমশ জন্মায় তাঁর পাপ!

হে পাপী!

 

 

 

 

৩.

রূপা!

একাবিংশ শতাব্দিতেও আমার এত ভয়

তোমাকে যদি খোয়াতে হয়; এই ভয়ে আমি আমার ইচ্ছেও প্রকাশ করতে পারি না! তোমারে যে ভালোবাসি তাও বলতে পারি না!

তুমি নিয়ে স্বহস্তে খড়গ

দিয়ে যাও মরণের কোপ,

বেঁচে থাকার পৃথিবী বড়ই আজব!

ইচ্ছে হয় মরে যাই কাপুরুষ পুরুষ হয়ে ছিঃ বেঁচে আছি !

 

 

 

তোমার আমার মাঝে সুদীর্ঘ দুর্দম টেনে দেয়া বেষ্টনী।

আমি কখনো বক্র বেষ্টনী পেরুবার ইচ্ছা প্রকাশ করিনি!

হে জলজ! হে মৎসকন্যা!

অভিশপ্ত ইচ্ছেতে আমাকে ক্রমশ অনেক কিছু খোয়াতে হবে এমনকি, তোমাকেও!

 

 

 

 

৫.

তুমি বেষ্টনী পেরোতে বলো অথচ আমার গিড়ায় বাঁধা থাই জিঞ্জির! এ জিঞ্জির কর্তনের আগে আমার দেহ চলে যাবে মেঘালয়! যেখানে মেঘেদের সাথে বস্তুত জলেদের সাক্ষাৎ হয়। হে মেঘমালার প্রতিপালক আমাদের সন্ধি ঘটিয়ে দাও আজ এক্ষুণিই! এক্ষুণিই চাই! এক্ষুণি দিতে হবে এক্ষণ এই মূহুর্তে দাও!

 

 

৬.

যদি না দাও তবে

বলে দাও ভেবে;

ভান করোনা

তোমার পক্ষে এ সন্ধি ঘটানো

অসম্ভব হে বিধাতা!

হারিয়ে যাব পানা পুকুরে

ঠিক দুপুরে

বুভুক্ষু কুকুরের মতো

হেটে হেটে রূপাকে

ভিক্ষে আর মাঙবোনা!

আর পানা পুকুরে খুব সহজেই, যারা হারিয়ে যেতে চায়

তাদের শরীরে তাকিয়ে দ্যাখো কত পুঁজিত কষ্ট হানা দ্যায়!

কি আজব এক যাতাকলে ফেলে

তুমি হেসো না হেসো না মাবুদ

আমাকে নিয়ে এ কোন আজব খ্যালা?

 

 

৭.

হিসাবের গোলমাল একটি শূণ্যতে। শূণ্যতা বরাবর মুখ্য না হলেও, শূণ্য ছাড়া হিসাব পূর্ণ হয় না।

হে গনিত, আমাকে তুমি শূণ্য ভেবে নাও।

আমাকে ছাড়া তুমি পূর্ণতা পাবে না।

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s