প্রতিনিধি সিরিজ: গেম অব ড্রোনস

গেম অব ড্রোনস (প্রতিনিধি সিরিজ এর ৩য় পর্ব)

‘বাতিটা নিভিয়ে দাওতো আনেস।’ হাসিহাসি মুখ করে বললেন দিকপাল সাহেব। আজ তিরিশ বছর পর বউয়ের কোলে ঘেটি দিয়া মনের সুখে ঘুমাবেন তিনি। শুধু বউয়ের কোলো ঘুমানো ছাড়া তিরিশ বছরে কতকিছুই করে ফেলেছেন! সায়েন্স ফিকশান সব উল্টিয়ে একাকার করেছেন। ত্রিশটি ড্রোন বানিয়ে বিভিন্ন গ্রহে পাঠিয়েছেন। ছড়া-কবিতার জগতেও নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে রেখেছেন। গতমাসে ‘মুতিয়া-এলো’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিলো রোবটদের জন্য লেখা তাঁর কষ্টের কবিতা ‘সিংসাং’। ছাপিয়ে ছিলেন বন্ধুবৎসল গনিসুল হক। সমগ্র প্লানেটে সাড়া পরে গিয়েছিলো! প্রক্সিমা সেন্টাউরি থেকে অনেকেই ফোন করে কেঁদেছেনও। শয়তানের গ্রহ Eviler-B323923 থেকে তাকে মহাকবি হোমারের মর্যাদা দেয়া হয়েছে! ভাবতেই কেমন একটা কবি কবি শিহরণ হচ্ছে দিকপাল সাহেবের।

নাহ আর এসব শিহরণ-ফিহরণে কাজ নেই, বরংচ হেদিয়ে পরে মাকছুদার কোলে একটা ঘুম দিলে লাভ হবে। মনেমনে বলেন দিকপাল। আনেস শুয়োরটা বাতি নিভাচ্ছে না।

‘আনেস….. আনেস…..আরে এই আনেইচ্চার বাচ্চা!” তিনবারেও সাড়া নেই আনেসের।

‘থাপ্রাতে হবে নিকি শূয়োর?’ খেকিয়ে ওঠে দিকপাল সাহেব!

‘তুই কী শুনিসনে জানোয়ার?’ রাগে

ইলেকট্রিক শূয়োরের মতো ঘোৎঘোৎ করে উঠলেন দিকপাল সাহেব। রাগে তাঁর শরীরের পশম দাঁড়া হয়ে গেলো, দাঁড়িয়ে গেলো ছত্রিশ বচ্ছরে না ছাটা মোসও! এমন ইলেকট্রিক শূয়োরের মতো ঘোৎ করে ডাক শুনে ভয়ে কলজে মুখে চলে আসে কামের ছেমড়া আনেসের! তড়িঘড়ি করে দৌঁড়ে এসে লাইটটা নিভিয়ে অন্ধকারে নিজের শোবার ঘরে খিচ্চা দৌঁড় মারে আনেস!

‘হা হা হা! ভয় পেয়েছে! হা হা হা! সাগোল কোতাকার! হা হা হা!’ হাসতে হাসতে বউয়ের কোলে হেদিয়ে পরে সাথেসাথেই নসিকায় টান মারেন দিকপাল। বউ বিরক্ত হয়, কেমন হুলো বিলাইর মতো ঘুম কাতুরে লোকটা ইস! মাকছুদা বেগমের হাত নিসপিস করতে লাগলো। কবে সেই কাউকে থাপ্রিয়েছে মনেও নেই! কেমন হয় যদি স্বামীকে ঠাস করে একটা থাপড়া দেয়া যায়? যদি টের পায়? তো খাইছে! আবার ভাবে, নাহ্ দিয়েই ফেলি। যেই ঘুম কাতুরে কখনোই টের পাবেনা। টের পেলে আমিও ঘুমের ভান ধরে বলবো, ঘুমের মধ্যে থাপ্রা পরছে। ভাবতে ভাবতে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিকপালের গালে মেরে দিকপালের ঘেটি কোল থেকে সড়িয়ে পাশের বালিশে ভোঁসভোঁস করে ঘুমিয়ে গেলেন মাকছুদা বেগম। দিকপাল গণ্ডারের মতো ভোসভোস করে ঘুমুচ্ছে। কিছুই টের পেলোনা!

.

মাকছুদা বেগমের চোখে ঘুম লেগে এসেছে এরমধ্যেই বুনো শূয়োরের মতো কাইকাই করে শব্দ করে উঠলেন দিকপাল সাহেব! লাফ দিয়ে বসলেন মাকছুদা বেগম। দিকপাল ঘুমের মধ্যে মহিষের মতো গোঙাচ্ছে! মনেহয় স্বপ্ন দেখছে, মনেমনে বললেন মাকছুদা। না শুয়ে পরি। তিনি বিছানায় পিঠ লাগাবেন এমন সময় ‘পাইছি! পাইছি!’ বলে চিৎকার মেরে ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠলেন দিকপাল সাহেব। ভয় পেয়ে গেলেন মাকছুদা বেগম। ভয় সামলিয়ে স্বামীর দিকে বাজপাখির মতো তাকালেন,

‘কী পাইছ?’

‘স্পয়লার!’

‘কিসের?’

‘গেম অব ড্রোনসের!’

‘মানে?’

‘মানে পরে এসে বলবো। এখন এটার পেটেন্ট লিখিয়ে ছাত্রছাত্রীদের স্পয়লার বলে দিতে হবে। ‘ বিছানা থেকে উঠেপরেন দিকপাল সাহেব। ভার্সিটি মাঠে যেতে হবে। তড়িঘড়ি করে লুঙ্গী ছাড়াই ছোটা শুরু করলেন তিনি।

‘আরে তোমার লুন্গী নিয়া যাও!’ বললেন মাকছুদা বেগম।

‘তুমি আপাতত পিন্দো। আমি পরে এসে পিনবো।’ বলেই খিচ্চা দৌঁড় দিলেন ভার্সিটি মাঠের দিকে । হতভম্ব স্ত্রী নাংগা দৌঁড়ানো স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকলেন। লক্ষ্য করলেন, দিকপাল দৌঁড়ানোর সময় দুপাশে পেন্ডুলামের মতো ঝুলছে কিছু একটা। পরনে কোন কাপড় নেই এতে কোন সমস্যা নেই।

যারা পৃথিবীর রহস্য উন্মাচন করেন তারা প্রথমে নিজেদের লজ্জাস্থান উন্মোচন করেন। আর্কিমিডিসের কথা মনে নেই? আর্কিমিডিস কে রাজা একটা মুকুটের সোনা আর খাদের পরিমাণ বের করতে দিয়েছিলো। দ্বায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আর্কিমিডিস বেসিনে নগ্ন গোসল করতে নামলেন। বেসিনে নামার পর কিছুটা জল বাইরে গড়িয়ে পরলে আর্কিমিডিস খুশির ঠ্যালায় নগ্নই রাজসভায় ‘পাইছি! পাইছি’ বলে দৌঁড় দিয়েছিলেন। দিকপাল সাহেব এযুগের ডিজিটাল আর্কিমিডিস এতে কোন সন্দেহ নেই! গর্বে বুকটা দু-তিনবার উঁচু হয়ে ওঠে মাকছুদা বেগমের।

.

দিকপাল সাহেব ভার্সিটির মাঠে এসে যখন পৌঁছলেন তখন সকাল আটটা। ছাত্রীরা কেউকেউ তখন সবে এসেছে ভার্সিটিতে। মাঠের দিকে কোন ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো কাউকে দৌঁড়ে আসতে দেখলেন তাঁরা। না ভিনগ্রহের না, বুকে বনমানুষের মতো পশম, নিশ্চই বনমানুষ! তাঁরা ভাবে। আগন্তুক কাছে আসতেই সবাই যেন এলিয়েন দেখার মতো চমকালো! এযে স্যার! প্রিয় স্যারের এদশায় তাঁরা অাশ্চর্য না হয়ে পারলোনা! সবাই স্যারকে ঘিরে দাঁড়ালো। লজ্জাস্থানের মাথায় পারা!

.

সবাই দাঁড়াক তাতে সমস্যা নেই কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সমবেত সবাই স্যারে টুনটুনির দিকে তাকিয়ে! স্যার কী নাংগা পাগল হয়ে গেলেন? মনে বল্ল ছাত্রীরা। দিকপাল সাহেব কিছুটা আঁচ করতে পারলেন।

‘প্রিয় ছাত্রীরা তোমরা আমাকে দেখে নিশ্চই চিন্তিত? চিন্তা করোনা, আমি এযুগের আর্কিমিডিস। আমি এসেছি রহস্যের জাল তোমাদের সামনে ফুটো করতে!’ দিকপাল সাহেব বললেন ।

‘কী রহস্য স্যার?’ সমবেত ছাত্রীদের কণ্ঠ।

‘প্রিয় ছাত্রীরা, গেম অব থ্রোনসের স্পয়লার আমি স্বপ্নযোগে পেয়ে গেছি!’

‘সত্যিই স্যার?’

‘হ্যাঁ!’ কী স্যার?’

‘ আসলে ওটা কোন সিংহাসন রহস্য নয়, ওটার মূল রহস্য হচ্ছে একপাল ড্রোন নিয়ে!’

ছাত্রীরা সব অগার মতো তাকিয়ে আছে। দিকপাল সাহেব হাসেন,

‘কী বিশ্বাস হচ্ছেনা?’

‘না স্যার!’ সমবেত ছাত্রীরা বল্ল।

‘তোমরা যারা অবিশ্বাসী: সিংহাসনের মাথার সুঁচালো দাঁড়াগুলো খেয়াল করে দেখেছো কেমন ড্রোনের মতো? আর ওখানে একটা নয়, দুটা নয় কয়েকটা ড্রোন। আর ঐ ড্রোন যে রাজা পাবে সেই হবে সাতটা নয় শুধু পুরো বিশ্বের রাজা! এজন্যই এত হানাহানি, যুদ্ধ সিরিজটায় বুঝলে বাড়া? তাছাড়া ঐযে ডেনিরিস কে দেখো খালি ড্রাগন নিয়ে এখানে সেখানে উড়ছে, ওগুলো কিন্তু আসলে ড্রাগন না ওগুলো আধ্যাত্মিক ড্রোন। ‘

ছাত্রীদের চোখ চকচক করে উঠলো! এতদিন তাঁরা তাহলে বিজ্ঞানই দেখেছে। ভূয়ছূয়া কোন গল্প নয়! গর্বে বুক ফুলে উঠে তাদের। ছাত্রীরা মিলে দিকপাল সাহেবের নমে জয়ধ্বনী দিতে শুরু করলো।

‘স্যার আমার নাসায় খবর দিয়েছি। তাঁরা আপনার এমন ব্রেইন জাদুঘরে রাখবেন বলে জানিয়েছে! বিকেলেই তাঁরা মাঝারি একটা ড্রোনে চড়ে আসবেন বলেছেন আপনাকে সংবর্ধনা দিতে।’ সমবেত ছাত্রীরা বল্ল। দিকপাল সাহেব খুশির ঠ্যালায় হাতপা ছড়িয়ে ক্যাঙারুর মতো দুলতে শুরু করলো।

.

সমবেত ছাত্রীরা দিকপাল সাহেবের দিকে তাকিয়ে আবার বল্ল,

‘স্যার! ক্যান উই টেক সেলফিস উইথ ইয়্যু?’

‘অপস্! নিশ্চই, শিউর শিউর’

বলতে বলতে ছত্রিশ বছরে নাকাটা তেলমাখা গোঁফে তা দিতে থাকেন দিকপাল সাহেব, নাকের ছিদ্রে তখনো উঁকি দিচ্ছিলো সাইত্রিশ বছরের না কাটা সেই পশম। টুনটুনিটাও সামান্য নড়ে উঠলো!

.

প্রতিনিধি পর্ব ১- https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=306839470181499&id=100025663455379

প্রতিনিধি পর্ব ২- https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=355097258689053&id=100025663455379 [ আশফাক মাহমুদ ]

Advertisements

স্যাটায়ার: প্রতিনিধি সিরিজ

প্রতিনিধি (সায়েন্স ফিকশন্যাল স্যাটায়ার)

– সজল আহমেদ

পৃথিবীতে নিজেদের একমাত্র বান্দা খুঁজতে হিড়িক পরে যায় শয়তানের গ্রহ ইভিলার-বিথ্রিনাইনজিরোটুথ্রিটু (Eviller-B390232) তে। শয়তানের বান্দাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে সেট করে পায়ের উপর ঠ্যাঙ তুলে বিশ্রাম করার পায়তারা করছিলো সমগ্র শয়তান। প্রতিনিধি খুঁজতে সমগ্র পৃথিবী জুড়ে পাঠায় অসংখ্য স্যাটেলাইট। একদিন হঠাৎ পৃথিবীতে সেট করা স্যাটেলাইট হতে সিগন্যাল আসতে থাকে সাথে সাথে ভেসে ওঠে সেই প্রতিনিধির নাম। পৃথিবীর বৃহৎ মহাদেশ এশিয়ার ছোট্ট একটি দেশ বাংলাদেশের পাহাড়িয়া বিশাল বিভাগ চাইট্টাগ্রামে শয়তানের এক জাতভাইয়ের বাসা হতে অনবরত এ সিগন্যাল আসছিলো! খুশিতে পেঙ্গুইনের মতো দুলতে থাকে শয়তান সরদার।

সিগন্যাল আসার সঙ্গে সঙ্গেই শয়তান সরদার নিজেদের জাত ভাই খোঁজার কাজে পৃথিবীতে বাচ্চা শয়তানদের ছড়িয়ে দিলে তাঁরা সিগন্যাল ধরেধরে এসে সব জড়ো হয় তাদের সিগন্যাল পাঠানো বান্দাটির বাসার সামনে! বান্দার বাসার সামনে নেইম প্লেটে বড়বড় করে তাঁর নাম সাঁটানো ছিলো “ড্রোন বিজ্ঞানী, অপদার্থবীদ, কলামিস্ট, সায়েন্স ফিকশান ও ভূতের বাচ্চার লেখক প্রফেসর ডাক্তার মোহাম্মদ সরফরাজ দিকপাল (এমএসসি. বিএসসি, ড্রোনেসসি, সায়েন্সফিকেশানাসসি, কলামেসসি, এমবিবিএ অন লিথোলজি ফ্রম ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া)” হ্যাঁ ঠিক জায়গায়ই এসেছি, বললো সব শয়তানের বাচ্চারা।

 

সুন্দর স্ট্রব্রেরীর মতো লাল কলিংবেলটায়

একটানা ঊনপঞ্চাশটি টিপ দেয়ার পরও দরজা না খোলায় বিরক্ত হয়ে এক ছোট শয়তানের বাচ্চা খেকিয়ে ওঠে-

” কী অবস্থা! মরছে নিকি সব? দিকপাল সাহেব বাসায় নাই নিকি?”

একটি অচেনা চিনচিনে ভদ্র গলা শোনা গেলো, “না তোমাদের স্যার এসময়ে বাসায় থাকেন না। উনি এখন সম্ভবত য়্যুনিভার্সিটির মাঠে ড্রোন নিয়ে খেলাধুলা করছেন ছাত্রীদের সাথে। দরজা খুলে দেই উঠে বসো। চা খাও উনি এসে যাবেন তন্মধ্যে”

হাতে চা খাওয়ার একদম সময় নেই দেখে চা খাবেনা দরজা খোলার দরকার নেই, বলে শয়তানের বাচ্চারা চলে গেলো য়্যুনুভার্সিটির মাঠে। সেখানে দিকপাল সাহেব ড্রোন উড়াচ্ছিলো না বরংচ ডান হাত মাথায় দিয়ে, বামহাতে মোসগুলো একবার এদিক একবার ওদিক ছড়িয়ে গভীর চিন্তায় চিন্তামগ্ন! মাঝে মাঝে বা হাতটা আনমনে চলে যাচ্ছিলো নোস্ট্রলেও।

 

শয়তানের বাচ্চারা তাঁর পিছনে এসে চোরের বাচ্চার মতো দাঁড়িয়ে কাচুমাচু গলায় বললো-

“আপনি কী সরফরাজ দিকপাল?”

“হ্যাঁ!”

“কী করছেন এখানে?”

“কাল কী বিষয়ে কলাম লিখে মৌলবাদীদের ঘেটি থেকে কল্লা আলাদা করা যায় সে বিষয়ে ভাবছি।”

“অহ আইচ্ছা! আইচ্ছা!”

“তো এদিকে ফেরেন। কথা আছে। ওদিকে ফিরে বসে আছেন ক্যানো?”

“তোমরা যারা এত প্রশ্ন করো: ইচ্ছে হলে ফিরবো। এখন যাও বাড়ি গিয়ে আমার সায়েন্স ফিকশান মুখস্ত করোগে যাও….”

“আপনি যাদের ভাবছেন আমরা তারা নই। আমরা আপনার ছাত্রী নও, আমরা শয়তানের বাচ্চা। শয়তানের রাজত্ব থেকে এসেছি। ”

অাশ্চর্য হয়ে দিকপাল পিছনে তাকায়। পিছনে তাকিয়েই সে হতভম্ব হয়ে যায়!

 

“আপনারা! আপনারাই কী তাঁরা যাদের আমি সিগন্যাল পাঠিয়েছি?” চকচক করে ওঠে দিকপাল সাহেবের চোখ।

“হ্যাঁ আমরা।” শয়তানের বাচ্চারা জবাব দেয়।

খুশিতে আত্মহারা দিকপাল খুশিতে, ঠ্যালায়, ভাল্লাগে, ঘোরতে প্রায় চিৎকার স্বরে বলেন,

“চলুন চলুন বাসায়। আমার গিন্নি খুব চমৎকার লিকার ছাড়া চা বানায়। খেতেখেতে গল্প করতে পারবো। ”

“না আমাদের হাতে সময় নেই!” এরপর এক শয়তানের বাচ্চার ডাউট হলো, সে চিন্তা করে শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করে এমন কারোর তো বিনয়ে গদগদ হওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা! আগপাছ না ভেবেই সে জিজ্ঞেস করে বসে-

“আপনি কী সত্যই দিকপাল সাহেব নাকি ভুরুংবাজি করছেন?”

“কেন ডাউট হচ্ছে?” বলেই তিরিশ বছরে না কাটা মোস ছেচল্লিশ বছরে না কাটা নাকের পশম উঁচিয়ে – “তোমরা যারা সন্দেহপ্রবণ: এখনো সন্দেহ আছে?”

এবার উল্টো চকচক করে ওঠে শয়তানের বাচ্চাদের চোখ! তাঁরা সরফরাজ দিকপাল কে চ্যাংদোলা করে মাঠে থামিয়ে রাখা একটি ড্রোনে চেপে পারি দেয় শয়তানের রাজত্বে। এবার তাঁরা আরাম করার সুযোগ পাবে। দিকপাল তখন মোসে তাঁও দিতে দিতে দাঁত বের করে হাসছিলো। নাকের দুই ফুটো থেকে উঁকি দিচ্ছিলো কাঁচাপাকা ছেচল্লিশ বছর পূর্বের সেই না কাটা পশম!

 

প্রতিনিধি (সায়েন্স ফিকশন্যাল স্যাটায়ার) – ০২

– আশফাক মাহমুদ

সকাল থেকে বাতাস বইছে; খুব জটিল একটা বাতাস। ইয়্যুনিভার্সিটির মাঠে এখন বলতে গেলে কেউই নেই তিনজন মানুষ বাদে। তারা ড্রোন নিয়ে কি যেনো খেলছে। একটা ইভিল ক্রাফ্ট থেকে তাদের উপর তীব্র দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

ক্রাফ্টের ভেতর থেকে খানিকক্ষণ পরপর স্ক্যানার দিয়ে তিনজনকে চেক করছে একজন বয়োবৃদ্ধ শয়তান। গোফওয়ালা চেহেরা এবং বেশভূষা দেখে মনে হবে ইনিই শয়তানের সর্দার।

পৃথিবী নামক গ্রহটিতে নাকি তাদের মতোই একদল লোক আছে, এবং মাঠে থাকা তিনজনের মধ্যে একজনের সব বৈশিষ্ট্য এদের সাথে হুবুহু মিলে যায়। তাই এই লোকটার উপর কড়া নজর রাখছে শয়তানী যানটার সকল সদস্যরা।

 

.

ক্রাফ্টটাকে আরেকটু নিচে নামিয়ে আনতেই ইয়্যুনিভার্সিটির মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেলো। বাতাসের বেগে সবকিছু এলোপাথাড়ি উড়তে লাগলো।

 

মাঠে দাঁড়ানো স্যার সরফরাজ দিকপাল।

উনার সাথে আরো দুইজন মেয়ে স্টুডেন্ট। তারা বাতাসের বেগে ডিগবাজি খেয়ে যাবার জোগার প্রায়। হাতের কাছে বলতে গেলে অবলম্বন হিসেবে কিছুই পাচ্ছিলো না যেটা ধরে বাতাসের প্রবল বেগ থেকে আত্মরক্ষা পাওয়া যায়।

হুট করে একজন স্টুডেন্ট সেখান থেকে ছিটকে অনেক দূরে সরে পড়ে গেলো। বাকি যে স্টুডেন্টটা আছে সে দিকপাল স্যারের কি যেনো একটা জিনিস অবলম্বন করে এখন অবধি বাতাসে আনুভূমিক ভাবে ভেসে আছে সেইজনের নাম জানা গেলো মিস. খাসি লিমানাসরিন। দীর্ঘ সময় ধরে দিকপাল স্যারের জিনিসটা ধরে রাখাতে তার উপর আরো বাতাসের উর্ধ্ব-নিম্ন-সম্মুখমূখী বেগে জিনিসটিতে টান খেয়ে স্যারের মুখটা পাংশুবর্ণ হয়ে গেল। তার উপর ছাত্রীটা ওজনে একটু বেশি বেশিই। এই মূহুর্তে তার শখের জিনিসটা ধরে সে দিগ্বেদিকশূণ্য হয়ে উড়ছে, যেনো সমগ্র পৃথিবীর(ছাত্রীটা) কেন্দ্রে মাইনাস জি (-g) সৃষ্টি হয়ে উল্টো তার শখের জিনিসটা একটা বিশাল পৃথিবীকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানছে।

নাহ!এইভাবে আর বেশিক্ষণ পারা যায় না।

এবার মনে হয় টান খেয়ে তার শখের জিনিসটাই সমূলে উৎপাটন হয়ে যাবে। ব্যাথায় দিকপাল স্যার কুঁতকুঁত করে উঠলেন।

 

দিকপাল সাহেব যেটা ভেবে ভেবে ভয় পাচ্ছিলেন ঠিক সেটাই হলো, ছাত্রীটা দিকপাল সাহেবের শখের গোঁফকে সমূলে উৎপাটন করে অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়লো। বাতাস এলোপাথাড়ি হওয়ায় খাসি লিমানাসরিন ভোঁ করে উপরের দিকে ছিটকে পড়েছিলো, তারপর এক… দুই… তিন… কয়েক সেকেন্ড পার হতেই ক্রাফ্টটাকে দ্বিখন্ডিত করে দিয়ে সে উপরের দিকে অদৃশ্য হয়ে গেল।

 

শয়তানের দল কোন ভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে প্রাণে বাঁচালো। মাটিতে নেমেই তারা দিকপাল স্যারের মুখে কাঙ্ক্ষিত গোঁফ না দেখতে পেয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।

সর্দার গোছের শয়তানটি প্রথম মুখ খোললো,

 

– চাইলেই আপনি ছাত্রীর থিওরি মোতাবেক শখের জিনিসটা ঢেকে রাখতেই পারতেন। আমরা বুঝে উঠতে পারিনি, সে আপনার চাইতেও ঢের বেশি শয়তানি স্কিলসম্পন্ন ছিলো। যাই হোক যেটা গেছে তা আর ফিরানো যাবেনা। মেয়েটা আপনার গোঁফ নিয়ে টেকনিক্যালি চলে গেছে তার পুরাতন কেল্লায়। এখন সে এগুলা নিয়ে গবেষণা করবে। আমরা মূলত এসেছি গোঁফসমেত আপনাকেই নিয়ে যেতে। কারন আপনার গোঁফের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল আপনার বৈজ্ঞানিক মস্তিষ্ক, আপনার মেধা। এমনকি আপনার নিউরন স্নায়ু। এখন আপনার স্নায়ুসংক্রান্ত কোন কাজই হবেনা। সোজা কথায় আপনি অনুভূতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।

 

– ইশশ… আমাকে বোকা বানালো মেয়েটা। আচ্ছা কোনভাবে আমার গোঁফ ফিরিয়ে আনা যায় না? হে মহান পথনির্দেশক!

 

– ফেরত চাইলে সে নিশ্চিত আপনাকে তার শরীরের অন্য স্থান থেকে গোঁফ জাতীয় চুল ফেরত দিয়ে বোকা বানাবে।

 

– আমার গোঁফের একটা বিশেষত্ব হলো সেগুলা সাদা এবং পাকা। আমি ঠিকই চিনে নিবো

 

– আগেই বলেছি আপনার মেধা গোঁফের সাথে উবে গিয়েছে; আপনি এখন একজন বক্সোদ বিজ্ঞানী। আরে ভাই যাকে ছাত্র বানিয়েছেন সে তো বয়সে আপিনার সমান প্রায়, তার সব চুলই তো পেকে গিয়েছে। আসলে আপনার যতক্ষণ গোঁফ ছিল ততক্ষণ আপনার অনেক মূল্য ছিল। চেয়েছিলাম আমাদের গ্রহে আপনাকে নিয়ে যাবো। তা এখন আর হলোনা।

 

– কি বললেন স্যার? আপনাদের গ্রহে যাওয়া তো আমার অনেক দিনের বাসনা, অনেক দিনের ইচ্ছে। আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

হায় হায়!আমার ছাত্রী সব গুড়েবালি করে দিলো! কেন যে ছাত্রী নিয়ে পড়ে থাকতাম আমি!!

– এখন আর সময় নেই। আপনাকে এখন নকল বিজ্ঞানী হিসেবে বেঁচে থাকতে হবে। আপনাকে কিছু নকল গোঁফ দিচ্ছি নিন। এগুলা লাগাবেন। আমাদের নেক্সট কমান্ড না আসা পযর্ন্ত এগুলা লাগিয়ে ড্রোন নিয়েই পড়ে থাকুন, বিজ্ঞানকে বক্সোদের মতো থিওরি দিয়ে বই লিখুন।

এখন আপাতত আপনাকে প্রতিনিধি বানিয়ে যাচ্ছি। এ জন্যে আপনার দেহে মোট ঊনচল্লিশটি সিরিঞ্জ পুশ করবো যেগুলোর মাধ্যমে কিছু ডিভাইস আপনার দেহে ইন হবে।

এগুলার মাধ্যমে আপনার মাধ্যমে আমাদের গ্রহে আপডেট পৌঁছুবে।

 

– বাবারে ভাভা!! এত বড় বড় এত এত সিরিঞ্জ কিভাবে আমার দেহে নিবো!

 

– আগেই বলেছিলাম আপনার নিউরণ নেই। গোঁফের সাথে চলে গেছে। সুতরাং অনূভুতি শক্তিও নেই।

(এটি বলেই সর্দার গোছের শয়তানটা দিকপাল সাহেবের শরীরের সবচাইতে নিরীহ এবং অনৈচ্ছিক মাংসল পেশিতে একেরপর এক ইয়া মোটা সিরিঞ্জ পুশ করতে লাগলো।)

কি দিকপাল সাহেব! ব্যাথা লাগছে?

 

– নাহ! আরো সিরিঞ্জ ভরুন! আরো আরো সিরিঞ্জ, আরো কিছু সিরিঞ্জ প্লিজ!

 

– দুঃখিত ঊনচল্লিশটি সিরিঞ্জ ইতিমধ্যে শেষ। আমাদের যেতে হবে। আপনার সব চাইতে বড় ড্রোন যেটি বিদেশি একটি সংস্থার ড্রোন থেকে ফর্মূলা চুরি করে বানিয়েছেন সেটি নিয়ে আসুন। আমরা যাবো।

 

দিকপাল সাহেব ড্রোন নিয়ে আসতেই শয়তানের দল উড়াল দিলো। দিকপাল সাহেব অসহায়ের মতোন আকাশের পানে চেয়ে রইলেন।

বেতন

IMG_20180524_195219_044

বেতন

একবার তাকিয়ে দেখি আমি আমার দশ বছরের পুত্রের খানার প্লেটে সুস্বাদু খানা হিসাবে আছি, পুত্র আমাকে কচকচ করে চিবিয়ে খাচ্ছে। আবার দেখি আমার বৌয়ের ডায়ামন্ড রিংয়ে ডায়মন্ড হিসাবে আছি।

Continue reading “বেতন”

রিদমড: সজল আহমেদ

20180525_210241-picsay

রিদমড

-সজল আহমেদ

 

ঘুমের শহরে কেউ কথা বলেনা

কথা বলেনা সেথা গাড়ি চলে না

.

গাড়ি চলেনা সেথা, গাড়ি চলে রোডে

গাড়ির পেছনে সবাই দল বেঁধে ছোটে

.

দলবেঁধে ছোটে সবে দলে দলে যায়

হেঁটে গেলে সকলের ঝিম ধরে পায়

.

ঝিম ধরে পায় যদি কেউ হেঁটে যায়

হেঁটে হেঁটে সেঁজুতি বেঁটে হয়ে যায়

.

বেঁটে হয়ে যেই সে ফুল ছুঁতে যায়

হাত ছিড়ে রক্ত গড়ায় কাঁটারো গুতায়

.

কাঁটার গুতায় যেই রক্ত তাঁর ঝরে

বিষের জ্বালায় ফুপিয়ে সে মরে

.

ফুপিয়ে মরে সে অকথ্য ব্যথায়

অকথ্য ব্যথারা একদা শরীরে মিশে যায়

.

শরীরে মিশে যায় তার সাথে শিতল ও বাতাস

শিতল বাতাসে ওরা খেলে তিন তাস

.

তিন তাস খেলে যেই কেউ হেরে যায়

একে অপরের তখন কপাল ফাটায়

.

কপাল ফাটিয়ে মজিদ ঘর ছাড়া হয়

ঘর পালালেই কুফার কপাল খুলে যায়

.

কপাল যেই খুলে যায় কুফা বেকুব হয়ে যায়

বেশি টাকা নিয়ে বসে পরে আবার জুয়ায়

.

জুয়ার আড্ডায় কুফা আবার যেই বসে

খয়রাতি কুফা রূপে গৃহে ফিরে আসে

.

গৃহে ফিরে এসে খায় ভাত সেই মেলামাইন থালায়

কুকুরের পেটে কভূ নাহি ঘি হজম হয়

.

ঘি হজম নাহি হলে থানকুনি খায়

থানকুনি খেলে পেটের ব্যামো চলে যায়

.

ব্যামো চলে গেলে আবার কুখাদ্য খায়

আবাল মরে না সব পৃথিবীতে পরে রয়

.

পরে রয় পৃথিবীতে কতশত অবাস্তব কল্পনা

মাটির বুকে ছিড়ে ফুটুক সুশ্রী ফুল সকলের বাসনা

.

বাসনা সকল কভূ পূর্ণ নাহি হয়

বেকুবের বুদ্ধি হলে সব অকালে হারায়

.

অকালে হারিয়ে যায় অযত্নের দাঁত

প্রেমিকা জমা করে শুধু অবসাদ

.

শুধু অবসাদ যারা জমা করতে জানে

তাঁরা শেখাতে আসে ভালোবাসার মানে

.

ভালোবাসার মানে ঝামেলা বাড়ানো

পঁচা মিস্টির নিষ্ফল মাছি তাড়ানো

.

মাছি তাড়িয়ে শেষে চলে গেলে বেলা

শিশুরা ফিরে ঘরে ছেড়ে এসে খেলা

.

ছেড়ে এসে খেলা মাকসুদ ঘুমুতো যায়

পলি কে স্বপ্নে দেখে দ্রুত ভোর হয়

.

ভোর হলে মা এসে কান ধরে টানে

মরিচ ডলে ভাত খায় বসে স্ব আসনে

.

স্ব আসন যে ছিনিয়ে নিতে জানে

তাঁর বুঝতে বাকি নেই জীবনের মানে

.

জীবনের মানে অস্ত্র ছাড়া যুদ্ধ

হয়তবা মরো, নতুবা মারো পালসুদ্ধু

.

পালসুদ্ধু যদি যুদ্ধে মারতে নাহি পারো

শত্রুর গুলিতে তবে আগেভাগে মরো।

(সংক্ষিপ্ত)

কথনের বাপ (পাণ্ডুলিপি)

কথন/

গ্রুগ্রী

 

(+)বরংচ ব্যক্তিত্বহীন তো সে, যে মানুষকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয়ার ভান করে! কারণ যে ব্যক্তিত্বহীন সে “সম্মান” কি সেটাই বুঝে না!

 

(+)বেঈমানদের সাথে অভিমান করা আর না করা সমান! বেঈমানরা অভিমানের দাম দিবে না!

 

(+) আজ যদি আমি মারা যাই কাল হবে দুদিন, আর আমার ক্রিটিকসরা বলবেন “ক্ষাণকির পোলা মরছে ভালো হইছে!”

Continue reading “কথনের বাপ (পাণ্ডুলিপি)”

৪ টি কবিতা

20180207_160935-1-picsay

বিভ্রান্ত/

লতা বিভ্রম পাতার

ডালে বিস্তৃত সোনার মাদুর

পোকা খাবার লোভে ছোটে

কয়েকশ বিভ্রান্ত বাদুড়।

জানে না বাদুড়

আগালে কয়েকটা ধাপ

সামনেই পাঁতা

আছে মৃত্যুর ট্রাপ!

Continue reading “৪ টি কবিতা”

লিটল লিটল পোয়েট: পাণ্ডুলিপি+পিডিএফ

লিটল-লিটল পোয়েট

 

-সজল আহমেদ

[লিটল লিটল পোয়েট পিডিএফ ডাউনলোড: সাইজ 2.5mb]

জন্ম/

তিনি বসে আছেন অস্পৃশ্য কৈলাশে

জন্মায়নি কেউ জন্মায়নি, আল্লার ঔরষে!

Continue reading “লিটল লিটল পোয়েট: পাণ্ডুলিপি+পিডিএফ”